ক্ষমতা নিয়ে শুরুতেই যেসব কাজ করবেন ট্রাম্প

ক্ষমতা নিয়ে শুরুতেই যেসব কাজ করবেন ট্রাম্প

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর , ২০২৪, আপডেট ১৫:৩০

আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম কাজ হবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করা।

শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) আমেরিকার ফ্লোরিডায় ‘আমেরিকা ফার্স্ট পলিসি ইনস্টিটিউট’ এর অনুষ্ঠানে এই বক্তব্য দেন ট্রাম্প। নির্বাচনের পর এটিই তার জনসম্মুখে দেওয়া প্রথম দীর্ঘ বক্তব্য।

ট্রাম্প বারবার বলছিলেন যে, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি অবিলম্বে ওই যুদ্ধ বন্ধ করবেন। যদিও কিভাবে কী করবেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

এরপর তিনি তার সমর্থকদের জানান, তার অন্যান্য অগ্রাধিকার হবে মধ্যপ্রাচ্যএবং ‘দুর্নীতিগ্রস্ত, ভঙ্গুর, ব্যর্থ প্রশাসনকে সাফ করা’। তবে এই পরিকল্পনাগুলো সম্পর্কেও তিনি বিস্তারিত বিবরণ না দিয়ে মঞ্চ ত্যাগ করেন।

এই অনুষ্ঠানটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের (নির্বাচিত প্রার্থীর) বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট পলিসি ইনস্টিটিউট’ ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজেরই সংস্থা। কারণ ২০২১ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় ওই সংস্থাটি। এই প্রতিষ্ঠান দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একাধিক রক্ষণশীল নীতির প্রস্তাবনা তৈরি করেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যে এভাবে জিতে যাবো, তা কেউ জানতো না। এটি একটি বড় বিজয় ছিল।’

জনতার মাঝে থাকা অনেককে ধন্যবাদ দিয়েছেন তিনি। তাদের মাঝে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হ্যাভিয়ের মিলেই এবং হাউজ স্পিকার মাইক জনসনও রয়েছেন।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প টেসলার মালিক ইলন মাস্কের কথাও বারবার উল্লেখ করেছেন। ইলন মাস্ক গত কিছুদিন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তার বাসভবনে ছিলেন।

‘তিনি এই জায়গাটি পছন্দ করেন। আমি তাকে বের করে দিতে পারি না। আমিও এখানে তাকে পেয়ে আনন্দিত,’ ইলন মাস্ককে মজা করে বলছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আরও কিছু হাই-প্রোফাইল সমর্থককেও ধন্যবাদ জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। যেমন– সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বিবেক রামাস্বামী ও মার্কিন রাজনীতিবিদ টালসি গ্যাবার্ডকে। তাদের দু’জনকেই সিনিয়য় পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ফ্লোরিডায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, তিনি হোম সেক্রেটারি হিসাবে ডগ বারগামকে মনোনীত করেছেন।

কবে ক্ষমতাগ্রহণ করবেন ট্রাম্প?
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেদিন থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও দায়িত্ব, দুই-ই গ্রহণ করবেন।

রীতি অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল ভবনে নতুন প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। তবে তার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে এবং সেটি করা হবে ইলেক্টোরাল কলেজ পদ্ধতি অনুসরণ করে।

আগামী ১৭ জানুয়ারি ইলেক্টোরাল কলেজের প্রতিনিধিরা, যাদের বলা হয় ইলেকটোর, তারা একসাথে বসে তাদের ভোট দেবেন।

সাধারণত যে অঙ্গরাজ্যে যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী, সেই প্রার্থীর পক্ষেই ওই রাজ্যের সবগুলো ইলেক্টোরাল ভোট দেয়া হয়। যদিও কখনো কখনো এর ব্যতিক্রমও দেখা গেছে। সেরকম হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও নজির রয়েছে।

এরপর আগামী ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে সেনেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট গণনা করা হবে। সেই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বর্তমান ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী কমালা হ্যারিস। ভোট গণনা শেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম ঘোষণা করবেন।

নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত সময়কে বলা হয় ‘রূপান্তরকালীন সময়’। ওই সময়ের মধ্যে নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের বাছাই করেন এবং পরিকল্পনা তৈরি করে থাকেন। ট্রাম্প এখন সেটিই করছেন।

সূত্র-বিসিবি বাংলা

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading