স্টারলিংক অনুমোদন ইস্যু: বাংলাদেশের বাজারে কী হতে পারে?

স্টারলিংক অনুমোদন ইস্যু: বাংলাদেশের বাজারে কী হতে পারে?

শহীদ রানা। শনিবার, ১৬ নভেম্বর , ২০২৪, আপডেট ১৫:৪৫

স্যাটেলাইট ইন্টারনেট-এর খসড়া চ‚ড়ান্ত হলে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্টারলিংক কিংবা এ ধরনের প্রতিষ্ঠান স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবহার করে বাংলাদেশে ইন্টারনেট সেবা দেয়ার ব্যবসায় আসার সুযোগ পাবে। স্টারলিংক কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের বাজারে এই সেবা নিয়ে ঢোকার চেষ্টা করে আসছে। স¤প্রতি তাদের একটি দল ঢাকায় এসে বিনিয়োগ বোর্ডের সাথে বৈঠক করে গেছে। মূলত সাধারণ ইন্টারনেট সেবা যেখানে পৌঁছানো যায় না সেখানে সেবা দিতে সক্ষম স্টারলিংক । বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট সেবা দিতে পাঁচ বছর আগে মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠিয়েছে স্টারলিংক। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক ৬০টিরও বেশি দেশে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দিয়ে আসছে।

স্টারলিংক অনুমোদন পেলে দেশে প্রচলিত টেলিযোগাযোগ ও কেবল ইন্টারনেট পরিষেবায় প্রতিযোগিতা বাড়াবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। দেশে ইন্টারনেট পরিষেবার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি এর পরিধি প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্টারলিংক ইন্টারনেটের দাম বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত বেশি। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, বেশিরভাগ জায়গায় এর পরিষেবা নিতে মাসে প্রায় ১২০ ডলার খরচ হয়। প্রথমদিকে, হার্ডওয়্যার খরচসহ তা ৫৯৯ ডলারে পৌঁছায়। স্থানীয় আইএসপি থেকে পাঁচ এমবিপিএস ব্রডব্যান্ডের দাম প্রতি মাসে প্রায় ৫০০ টাকা ও মোবাইল ইন্টারনেটের দাম প্রতি ৩০ জিবিতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পড়তে পারে। এর আগে স্পেসএক্স বাংলাদেশে স্টারলিংক পরিষেবা চালুর ইচ্ছা প্রকাশ করে এবং গত জুনে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা এ বিষয়ে একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। স্পেসএক্স’র গ্লোবাল গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স ম্যানেজার জোয়েল মেরেডিথ ও গেøাবাল লাইসেন্সিং অ্যান্ড অ্যাক্টিভেশন ম্যানেজার পার্নিল উর্ধারেশ এর সুবিধাগুলো তুলে ধরেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন স্যাটেলাইট ভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো দেশে কাজ করলে সেই দেশের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্তপূরণ করে লাইসেন্স নিয়ে থাকে। স্টারলিংক বা এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের সীমানায় ঢুকতে চাইলে লাইসেন্স নিয়েই কাজ করতে হবে। বাংলাদেশেও নীতিমালা চ‚ড়ান্ত হওয়ার পর বোঝা যাবে লাইসেন্স পাওয়ার জন্য কোন কোন শর্ত কোম্পানিগুলোকে পূরণ করতে হবে। প্রযুক্তিবিদ সুমন আহমেদ সাবির গণমাধ্যমকে বলছেন স্টারলিংক আসলেও তাকে গাইডলাইন অনুযায়ী গেটওয়ে হিসেবে বাংলাদেশের হাব ব্যবহার করতে হবে। সেটায় যদি কোম্পানিগুলো রাজি হয় তাহলে সরকার সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। সব দেশেই এর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা সরকারের কাছেই থাকে। তবে অনেক দেশে নাগরিকের সুরক্ষার আইনি ব্যবস্থা আছে, যা বাংলাদেশে নেই। বাংলাদেশের গেটওয়ে ব্যবহার করে স্টার লিংককে ঢুকতে হবে। এমন একটা গেটওয়ে দিয়ে তাকে ঢুকতে হবে যার মালিক হলো সরকার। ফলে স্টার লিংক আসলে একটা বিকল্প হতে পারে। কিন্তু আগের মতো নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই থাকবে।

ইউডি/এজেএস

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading