দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার করে কত মানুষ?
আশিকুর রহমান। শনিবার, ১৬ নভেম্বর , ২০২৪, আপডেট ১৫:৪৪
২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে বাংলাদেশে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ১৩ কোটি ১০ লাখে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিটিআরসি) সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর এই সংখ্যা সম্পর্কে জানা যায়। বিটিআরসির তথ্যানুযায়ী, ১১ কোটি ৮৪ লাখ ৯০ হাজার মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং এক কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছেন। এদিকে, ২০২৩ সালে এক কোটি ৬১ লাখ নতুন মোবাইল ব্যবহারকারীসহ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দেশে গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯ কোটি ৮১ লাখে পৌঁছেছে। বাংলাদেশে বর্তমানে চারটি মোবাইল কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে তিনটি বিদেশি সমর্থনপুষ্ট সেলফোন অপারেটর। তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের আট কোটি ২২ লাখ, রবি আজিয়াটার পাঁচ কোটি ৮৬ লাখ, বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনসের চার কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার এবং টেলিটক বাংলাদেশের গ্রাহক সংখ্যা ৬৪ লাখ ৬০ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, বিশ্বব্যাংকের ‘ডিজিটাল অগ্রগতি ও প্রবণতা প্রতিবেদন ২০২৩’ বলছে, বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৩৯ জন ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এই হার পাকিস্তানের চেয়ে বেশি। তবে ইন্ডিয়া, শ্রীলঙ্কা, নেপালসহ প্রতিবেশী এবং সমপর্যায়ের অর্থনীতির বিভিন্ন দেশের তুলনায় কম। এর মানে হলো, ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক দিয়ে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, শুধু ইন্টারনেট ব্যবহার নয়, স্মার্টফোন ব্যবহার, ইন্টারনেটের গতি, ব্যবসায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রতিবেশী ও সমপর্যায়ের বিভিন্ন দেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিক দ্রুততর ইন্টারনেট সেবা ফোরজির আওতা, ইন্টারনেটের দাম ও ডিজিটাল লেনদেনের দিক থেকে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে ২২৫টির মতো দেশ ও অঞ্চলে ইন্টারনেট ব্যবহারের চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার মিয়ানমারের চেয়েও কম। মিয়ানমারে জনসংখ্যার ৪৪ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বাংলাদেশের চেয়ে দ্বিগুণ।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের শ্রেণিভুক্ত। এই শ্রেণিভুক্ত দেশগুলোতে গড়ে জনসংখ্যার ৫৬ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। দক্ষিণ এশিয়ায় গড়ে হার ৪২ শতাংশ। মানে হলো, নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার গড় হারের চেয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, দেশের জনসংখ্যার ৩২ শতাংশ মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। মুঠোফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহারের হার প্রায় ৫২ শতাংশ। হারটি দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশে সবচেয়ে কম। আফগানিস্তানও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে (৫৬ শতাংশ)।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালদ্বীপে ৮৩, ভুটানে ৮১, ভারতে ৭৭, শ্রীলঙ্কায় ৭০, পাকিস্তানে ৬৩ ও নেপালে ৫৯ শতাংশ মুঠোফোন ব্যবহারকারী স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। বাংলাদেশের মানুষ কেন স্মার্টফোন ব্যবহার কম করেন, তা উঠে এসেছিল ‘ব্রডব্যান্ড কমিশন’ নামের একটি প্রতিবেদনে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ওই প্রতিবেদনে জিএসএমের (মোবাইল অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন) তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, মুঠোফোন থাকা সত্তে¡ও ডিজিটাল জ্ঞান ও দক্ষতার অভাবে বাংলাদেশের ৪০ শতাংশ মানুষ মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না। এ ছাড়া ২৬ শতাংশ মানুষ মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রয়োজনই মনে করেন না এবং সামর্থ্য না থাকায় ব্যবহার করেন না ১১ শতাংশ। সুযোগ না থাকায় ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না এমন মানুষের সংখ্যা ১৭ শতাংশ এবং ৬ শতাংশ মানুষ নিরাপত্তার কারণে মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন।
বাংলাদেশে ইন্টারনেট খরচ বেশি: বাংলাদেশিরা ইন্টারনেট ব্যবহারে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় প্রায় ৬ দশমিক ৯ গুণ বেশি অর্থ খরচ করছে। ভিপিএন সেবাদানকারী প্ল্যাটফর্ম সার্ফ শার্ক প্রকাশিত গ্লোবাল ইন্টারনেট ভ্যালু ইনডেক্স (আইভিআই) শীর্ষক একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
ইন্টারনেটের জন্য যে খরচ করা হয়, সে রকম সেবা পাওয়া যাচ্ছে কি না তার ওপর ভিত্তি করে গেøাবাল ইন্টারনেট ভ্যালু ইনডেক্স তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ইন্টারনেট ব্যবহারে কোনো দেশ কেমন খরচ করে, তার একটি ক্রমতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সার্ফ শার্ক বলছে, বাংলাদেশের ইনডেক্স ০.০১০৫, যা বৈশ্বিক গড় ইনডেক্স থেকে প্রায় ৮৬ শতাংশ কম।
এর অর্থ, বাংলাদেশিদের ইন্টারনেট সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থব্যয় করতে হচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে বিশ্বের মাত্র ২৪ শতাংশ দেশ বাংলাদেশের চেয়ে বেশি অর্থব্যয় করে। তালিকায় প্রতিবেশী দেশ ভারত বিশ্বে ৪৪তম এবং আঞ্চলিকভাবে ১ম অবস্থানে আছে। অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নেপালের অবস্থান বিশ্বে ৭৭তম, শ্রীলঙ্কা ৯৬তম এবং পাকিস্তান ১০২তম। সার্ফ শার্কের ইন্টারনেট ভ্যালু ইনডেক্স হিসাবের জন্য প্রতি দেশের ইন্টারনেটের গতিকে ওই দেশের নাগরিকদের ইন্টারনেট ক্রয়ক্ষমতা দিয়ে ভাগ করা হয়। ভাগফল থেকে নির্ধারণ করা হয় কোনো দেশের নাগরিকরা ইন্টারনেটের জন্য অতিরিক্ত অর্থব্যয় করছে কি না। এ তালিকায় প্রথম স্থানে আছে ইসরায়েল, দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর এবং তৃতীয় ডেনমার্ক, অর্থাৎ ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যয় সবচেয়ে কম এই তিন দেশে।
ইউডি/এজেএস

