চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি: শিশুদের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ
মো. আসাদুজ্জামান । বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৪, আপডেট ১৫:৪৫
সারা বিশ্বেই মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। বয়স্ক মানুষের সংখ্যার তুলনায় শিশু জন্মের হার কমছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ সতর্ক করেছে, ২০৫০ সালের মধ্যে শিশুদের নানামুখী সংকট মোকাবিলা করতে হতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে ইউনিসেফ ২০৫০ সালের মধ্যে শিশুদের সম্ভাব্য বিপদগুলো চিহ্নিত করতে ভবিষ্যৎ তিনটি প্রধান কারণ তুলে ধরেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে জনমিতিক পরিবর্তন, বিরূপ জলবায়ু ও দ্রæত প্রযুক্তিগত রূপান্তর। এসব তরুণ প্রচন্মের জন্য এক অন্ধকার ভবিষ্যতের ঝুঁকি তৈরি করছে। নীতি নির্ধারকেরা সঠিক ব্যবস্থা না নিলে চলমান সংঘাতের অনিশ্চিত পরিণতির পাশাপাশি এসব বিষয় শিশুদের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
ইউনিসেফ বলছে, বর্তমানে বিশ্বে শিশুর সংখ্যা ২৩০ কোটি। তবে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের মোট জনসংখ্যা বেড়ে ১ হাজার কোটিতে পৌঁছালেও শিশুর সংখ্যা প্রায় একই থাকবে। এতে তারা বিপুল জনগোষ্ঠীর একটি ক্ষুদ্র অংশে পরিণত হবে। যেখানে কিছু অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমছে এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, সে অনুপাতে শিশুর সংখ্যা কমে যাবে। তবে সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চলে, বিশেষ করে সাব-সাহারান আফ্রিকায় শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকবে। কিছু উন্নত দেশে, ২০৫০ সালের মধ্যে শিশুর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশেরও কম হয়ে যেতে পারে। গড় আয়ু বাড়াতে ব্যস্ত দেশগুলোতে শিশুদের গুরুত্ব ও অধিকার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ
শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং ভবিষ্যতের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য আরেকটি হুমকি হলো জলবায়ু পরিবর্তন। বর্তমানে যে হারে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে শিশুরা ২০০০ সালের তুলনায় আট গুণ বেশি তাপপ্রবাহ, তিন গুণ বেশি মারাত্মক বন্যা এবং ১ দশমিক ৭ গুণ বেশি দাবানলের সম্মুখীন হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউনিসেফ। এ ছাড়া নতুন প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), নতুন উদ্ভাবন ও অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে এটি দারিদ্র্য ও ধনী দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্যগুলো আরও বাড়িয়ে তুলবে। উন্নত দেশগুলোর আনুমানিক ৯৫ শতাংশ লোকের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, তবে সবচেয়ে কম উন্নত দেশগুলোতে মাত্র ২৬ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পায়। বিদ্যুৎ, ইন্টারনেন্ট সংযোগ বা ডিভাইসের অভাবও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ কমিয়ে দেয়।
ইউনিসেফ আরও বলেছে, নিম্ন আয়ের দেশের শিশুদের, বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের বাধা দূর করার ব্যর্থতা সুবিধাবঞ্চিত প্রজন্মকে ‘পিছিয়ে যাওয়া প্রজন্ম’ হওয়ার পথে এগিয়ে নিতে পারে। তবে নতুন প্রযুক্তির সহজলভ্যতা শিশু ও তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের জন্য ঝুঁকিও তৈরি করে। তারা অনলাইন অপরাধীদের কবলে পড়তে পারে।
ইউডি/এজেএস

