শিশুদের বিরুদ্ধেই যেন সংঘাত চলছে

শিশুদের বিরুদ্ধেই যেন সংঘাত চলছে

রিন্টু হাসান । বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৪, আপডেট ১৫:৪৮

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, শিশুরা অসংখ্য সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। জলবায়ু বিপর্যয় থেকে শুরু করে অনলাইনের ঝুঁকি বাড়ছে। এগুলো ভবিষ্যতে আরও তীব্র হবে। বছরের পর বছর ধরে অর্জিত সাফল্য, বিশেষ করে কমবয়সী মেয়েরা, এখন হুমকির মুখে। ইউনিসেফের গবেষণা বিভাগের উপ-নির্দেশক সেসিল অ্যাপটেল বলেন, ভবিষ্যতের শিশুরা অনেক ঝুঁকির মুখোমুখি হবে। তবে সমাধানগুলো আজকের নীতি নির্ধারকদের হাতে রয়েছে। ইউনিসেফ আশা করছে, নতুন এই যুব জনসংখ্যার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা গেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

ইউক্রেন কিংবা গাজা যুদ্ধ থেকে শুরু করে সুদান বা মিয়ানমারের সহিংসতা-সব ক্ষেত্রেই শিশুদের প্রতি অমানবিক হয়ে উঠছে পক্ষগুলো। তবে শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা থামাতে জাতিসংঘ সব সময়ই সোচ্চার। শিশুর প্রতি আগ্রাসনকে ‘গুরুতর লঙ্ঘন (গ্রেভ ভায়োলেশনস)’ বলে অভিহিত করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। শিশুর প্রতি সংঘাত সম্পর্কিত সবশেষ প্রতিবেদনে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘শিশুরা যুদ্ধ সম্পর্কিত সহিংসতা ও নির্যাতনের কারণে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।’
জাতিসংঘ মহাসচিবের কথা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তব চিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যেসব সহিংসতা চলছে, তাতে করে সবচেয়ে বাজে অবস্থায় পড়েছে শিশুরা। হত্যা ও পঙ্গুত্ব, ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, অপহরণ, স্কুলে হামলা ও শিশুসেনা নিয়োগের মতো বহু ঘটনা ঘটছে যুদ্ধকবলিত শিশুদের সঙ্গে। এ ধরনের প্রবণতা যে কাউকে ব্যথিত করে স্বাভাবিকভাবেই।

মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধের কথাই যদি বলি, দেখা যায়-২০২২ সালে দেশটিতে শিশুর প্রতি অমানবিক আচরণ বেড়েছে ১৪০ শতাংশের বেশি। একইভাবে দক্ষিণ সুদানে শিশুদের জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে চলমান আন্তঃসাম্প্রদায়িক সহিংসতা। জাতিসংঘের নথিভুক্ত এমন দেশের তালিকায় রয়েছে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ইসরাইল-ফিলিস্তিন, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইউক্রেন, আফগানিস্তান ও ইয়েমেনের নাম। ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে চলমান সংঘাতে এরই মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সি প্যালেস্টাইনির সংখ্যাই সিংহভাগ। জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, যুদ্ধ সর্বদাই শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। গাজার শিশুদের অবস্থা আরো বিভীষিকাময়। এই অবস্থায় গাজার ১০ লাখেরও বেশি শিশুর জরুরি ভিত্তিতে মানসিক সহায়তা প্রয়োজন।

ইউনিসেফের ভাষ্য, ‘সব যুদ্ধেই সবার আগে ভুক্তভোগী হয় শিশুরা। সবচেয়ে বেশি কষ্ট ও আঘাত আসে তাদের ওপরেই। যদিও যুদ্ধেরও নিয়ম রয়েছে।’ ইউনিসেফের ভাষায়, ‘যুদ্ধের সময় কোনো শিশুকে প্রয়োজনীয় পরিষেবা থেকে বিচ্ছিন্ন করা উচিত নয়… কোনো শিশুকে জিম্মি করা উচিত নয়… হাসপাতাল বা স্কুলগুলোকে অবশ্যই বোমা হামলা থেকে রক্ষা করা উচিত… শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে তার দায় বহন করতে হবে আগামী প্রজন্মকে।’

ইউডি/এজেএস

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading