বাতিল হলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দায়মুক্তি আইন

বাতিল হলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দায়মুক্তি আইন

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার (৩০ নভেম্বর), ২০২৪, আপডেট ২২:৩৫

প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া কাজ দিতে ২০১০ সালে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। এই আইনের অধীন কোনো সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না—এমন বিধান থাকার কারণে এটি দায়মুক্তি আইন হিসেবে পরিচিত পায়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের এই দায়মুক্তি আইন বাতিল করেছে সরকার।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় আইনটি বাতিল করা হয়েছে জানিয়ে শনিবার (৩০ নভেম্বর) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এতে বলা হয়, সংসদ কার্যকর না থাকায় রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ আকারে আইনটি বাতিল করার হয়েছে। এ আইনের অধীন সম্পাদিত সব চুক্তি বা চুক্তির অধীন নেওয়া কোনো ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে বলে গণ্য হবে। ওই সব চুক্তির চলমান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এর আগে ১৪ নভেম্বর আইনের দুটি বিধান অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। তবে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৮ আগস্ট বিশেষ বিধান আইন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল। বলা হয়, এ আইনের অধীন ক্রয় প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম আপাতত বন্ধ থাকবে।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাময়িক সময়ের জন্য আইনটি করার কথা বলা হলেও দফায় দফায় এটির মেয়াদ বাড়িয়েছিল গত সরকার। সর্বশেষ বিশেষ বিধান আইনটির মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এ আইনের অধীন নেওয়া হয় শতাধিক প্রকল্প। কয়েক লাখ কোটি টাকার কেনাকাটা হয়েছে আইনটির আওতায়। দীর্ঘদিন ধরে এটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিশেষজ্ঞরা। এই আইনের অধীনই আলোচিত রেন্টাল (ভাড়াভিত্তিক), কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল।

অসহনীয় লোডশেডিং পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শুরুতে বিশেষ বিধান আইনকে সমর্থন দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও দায়মুক্তি নিয়ে আপত্তি ছিল সব সময়। আইন জারির পর তিন বছর মেয়াদি ১৭টি দ্রুত ভাড়াভিত্তিক (কুইক রেন্টাল) বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেয় সরকার। এরপর পাঁচ বছর মেয়াদি ভাড়াভিত্তিক (রেন্টাল) বিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদন করতে থাকে আওয়ামী লীগ সরকার। জ্বালানি তেলচালিত এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। তাই সাময়িক সময়ের জন্য চুক্তি করা হলেও পরে ব্যবসায়ীদের বাড়তি সুবিধা দিতে এগুলোর মেয়াদ বাড়ানো হয়। একপর্যায়ে সমালোচনার মুখে ‘বিদ্যুৎ নেই, বিল নেই’ শর্তে তাদের মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আর সচল নেই। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ১৫ থেকে ২৫ বছর মেয়াদে আরও বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি করা হয়। এতে পিডিবির উৎপাদন খরচ বাড়তেই থাকে।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading