যুব এশিয়া কাপ ক্রিকেটে ইন্ডিয়াকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৪, আপডেট ১৯:১০
যে কোনো ফরম্যাটেই হোক, ইন্ডিয়াকে হারানোর আনন্দই আলাদা। সেটা সিনিয়র কিংবা জুনিয়র- যে কোনো পর্যায়েই হোক। এবার যুব এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে ইন্ডিয়াকে ৫৯ রানের ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ।
দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠায় ইন্ডিয়া। ব্যাট করতে নেমে ইন্ডিয়ান বোলারদের তোপের মুখে বাংলাদেশের ব্যাটাররা খুব বেশি ভালো কিছু উপহার দিতে পারেননি। ৪৯.১ ওভারে ১৯৮ রান করে অলআউট হয়ে যায়।
জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে কোনঠাসা হয়ে যায় ইন্ডিয়াও। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ৩৫.২ ওভারে ১৩৯ রানে অলআউট হলো ইন্ডিয়ান যুব ক্রিকেট দল এবং সে সঙ্গে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশের যুবারা।
এক বছর আহগে, ২০২৩ সালে এই দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামেই স্বাগতিক আরব আমিরাতকে হারিয়ে যুব এশিয়া কাপ ক্রিকেটে প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো বাংলদেশ।
শুরুতে ইকবাল হোসেন ইমন আর আল ফাহাদ মিলে ইন্ডিয়ান যুবদের বেশ ভালোভাবেই চেপে ধরেছিলেন। তাতে ৯২ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বসে ইন্ডিয়ানরা।
এরপর অধিনায়ক মোহাম্মদ আমান এবং হার্দিক রাজ মিলে কিছুটা সমস্যা তৈরি করেছিলেন। ২৩ রানে জুটি গড়েন তারা। এ সময় ইন্ডিয়ানদের আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হন বাংলাদেশ অধিনায়ক আজিজুল হাকিম। শেষ তিন উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
জয়ের জন্য ইন্ডিয়ার সামনে লক্ষ্য মাত্র ১৯৯। ওয়ানডেতে অনেকটাই মামুলি। কিন্তু এই মামুলি রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৪ রানেই আয়ুশ মাত্রিকে হারায় ইন্ডিয়া। এরপর ব্যাক্তিগত ৯ রানে আউট আউট হয়ে যান বিভাব সূর্যবংশি। দলের রান তখন ২৪।
এরপর আন্দ্রে সিদ্ধার্থ করেন ২০ রান। ২১ রান করে আউট হন কেপি কার্তিকিয়া। নিখিল কুমার শূন্য রানে আউট হন। ৬ রানে হারভানস পাঙ্গালিয়া আউট হন। কিরণ চরমালে ১ রানে আউট হয়ে যান।
৩১.৫ ওভারে দলীয় ১১৫ রানের মাথায় ৮ম ব্যাটার হিসেবে আউট হন অধিনায়ক মোহাম্মদ আমান। ৬৫ বলে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন তিনি। হার্দিক রাজ ২১ বলে ২৪ রান করে আউট হন আজিজুল হাকিমের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। সর্বশেষ চেতন শর্মা ১২ বলে ১০ রান করে আজিজুল হাকিমের বলে কালাম সিদ্দিকীর হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। সে সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
আজিজুল হাকিম, ইকবাল হোসেন ইমন নেন ৩টি করে উইকেট। ২ উইকেট নেন আল ফাহাদ। ১টি করে উইকেট নেন মারুফ মৃধা, রিজান হাসান।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটাররাও বড় কোনো স্কোর গড়তে পারেনি। ৪৯.১ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ১৯৮ রান করে জুনিয়র টাইগাররা। রিজান হাসান সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন। ৪০ রান করেন মোহাম্মদ শিহাব জেমস। ৩৯ রান করেন ফরিদ হাসান।২০ রান করেন জাওয়াদ আবরার।
ইউডি/এআর

