শেখ হাসিনাকে নিয়ে উভয়সংকটে ইন্ডিয়া

শেখ হাসিনাকে নিয়ে উভয়সংকটে ইন্ডিয়া

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪, আপডেট ১১:৪৫

বিচারের মুখোমুখি করতে ইন্ডিয়ায় পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত চেয়েছে বাংলাদেশ। এরমাধ্যমে নয়াদিল্লি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছ, যা তাদের জন্য বেশ জটিল। বিষয়টি শুধুমাত্র আইনি বাধ্যবাধকাতেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং রাজনৈতিক কৌশলের ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। হাসিনাকে বাংলাদেশের ফেরত চাওয়ার বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে একটি ভুল সিদ্ধান্তে অনেক কিছু হতে পারে।

সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যান বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে বলেছে, শেখ হাসিনাকে নিয়ে এখন উভয়সংকটে আছে ইন্ডিয়া। কারণ ইন্ডিয়া যদি হাসিনাকে প্রত্যার্পণ করে, তাহলে সমালোচকরা বলবে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছে নয়াদিল্লি, যে সরকার সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতন বন্ধ করতে পারেনি। এছাড়া শেখ হাসিনার প্রতি যারা অনুগত তাদের ’পর করে দিয়েছে’ এমন একটি চিত্রও তৈরি হবে।

অপরদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত শেখ হাসিনাকে যদি ইন্ডিয়া ফেরত না দেয়, তাহলে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। যার প্রভাব পড়তে পারে বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর। এছাড়া ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনেও এটির প্রভাব পড়বে। বিরোধী দলগুলো সরকারের রাজনৈতিক প্রাধান্য এবং স্পর্শকাতর বৈদেশিক নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। এছাড়া আঞ্চলিক পরাশক্তি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি ভারতের যে প্রতিশ্রতি আছে সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। বিষয়টি দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ভূচিত্রের বিষয়টি আরও বড় পরীক্ষার মুখে পড়বে। যেখানে নির্বাসিত ব্যক্তি ও তাদের ফেরত চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

এছাড়া শেখ হাসিনাকে নিয়ে ইন্ডিয়া এবার কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটি ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সামনে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়লে দেশটি কী করতে পারে সেটি পরিষ্কার হবে। সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানানোর পাশপাশি, ইন্ডিয়াকে এই বিষয়টির মানবিক দিক বিবেচনা করতে হবে। তারা শেখ হাসিনার মতো পুরোনো বন্ধুকে ফেরত দেবে কি না সেটিও দেখার বিষয়। তবে এই মুহূর্তে, ইন্ডিয়া নিরব কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে পারে। যেটির মাধ্যমে কোনো উত্তেজনা তৈরি না করে উদ্ভুত পরিস্থিতি সমাধান করা যাবে।

সূত্র: দ্য স্টেটসম্যান

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading