আমেরিকায় বাতিল জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার, কার্যকর কবে থেকে?

আমেরিকায় বাতিল জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার, কার্যকর কবে থেকে?

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৫, আপডেট ১৬:১০

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হয়ে প্রথম দিনই কার্যত ঝড় তুলেছেন রিপাকলিকান এই নেতা। একের পর এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প।

এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আদেশ হচ্ছে- নাগরিকত্ব সংক্রান্ত। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবার থেকে আর আমেরিকার জন্মগতভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার থাকবে না।

বিগত প্রায় ১৫০ বছর ধরে আমেরিকার ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া শিশুরা ‘জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব’ পেয়ে আসছেন। তবে সেই অধিকারকে বাতিল করে এবার নির্বাহী আদেশ জারি করলেন ট্রাম্প। এই আদেশ কার্যকর হবে চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে।

ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী, আমেরিকায় যদি অবৈধ অভিবাসীর সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে সেই শিশুরা আর আমেরিকার নাগরিক হবেন না। এদিকে জন্ম নেওয়া শিশুর মা-বাবা যদি বৈধ ভাবেই আমেরিকায় গিয়ে থাকেন, কিন্তু তাদের মধ্যে কোনও একজন সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা নন, তাহলেও সেই শিশু আমেরিকার নাগরিকত্ব পাবে না।

এছাড়া কেউ যদি স্টুডেন্ট ভিসা, ওয়ার্ক ভিসা বা টুরিস্ট ভিসায় আমেরিকায় গিয়ে সন্তানের জন্ম দেয়, তাহলেও সেই শিশু আর আমেরিকার নাগরিক হবে না।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেরিকায় মেক্সিকান বংশোদ্ভূতরা সর্বোচ্চ সংখ্যায় নাগরিকত্ব পেয়েছেন। আর এখন এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা। ২০২২ সালে আমেরিকায় ৬৫ হাজার ৯৬০ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকার নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন।

আর ২০২৩ সালের হিসেবে ইন্ডিয়ার জন্ম নেওয়া মোট ২ কোটি ৮ লাখ ৩১ হাজার ৩৩০ জন মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন। অন্যদিকে মেক্সিকোতে জন্ম নেওয়া ১৯ কোটির বেশি মানুষ আজ পর্যন্ত আমেরিকার নাগরিকত্ব পেয়েছেন। আর এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছে চীন। সেই দেশে জন্ম নেওয়া ২ কোটি ২ লাখ মানুষ অতীতে আমেরিকার নাগরিত্ব পেয়েছেন।

গত বছরের ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও বিজয়ী হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সোমবার শপথ নেন তিনি। এর মাধ্যমে দেশটির প্রায় আড়াইশো বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে এক মেয়াদের বিরতিতে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসে ফিরলেন এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট।

নির্বাচনে জয়ের পরই আমেরিকার ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশটির নাগরিকত্বপ্রাপ্তির যে আইন বা বিধি এতদিন প্রচলিত ছিল, তা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অভিবাসন প্রসঙ্গে গত ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ট্রাম্প এনবিসিকে বলেন, তিনি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তথাকথিত জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিধান বাতিল করার পরিকল্পনা করছেন। এই নীতির আওতায়, আমেরিকায় জন্ম নেওয়া যে-কেউ — তার বাবা-মা অন্য দেশে জন্মগ্রহণ করলেও — আমেরিকার পাসপোর্ট তথা নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন।

মূলত জন্মগত নাগরিকত্বের বিধানটির আমেরিকার সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে নিশ্চিত করা হয়েছে। এ সংশোধনীতে বলা হয়েছে, আমেরিকা “জন্মগ্রহণকারী সব ব্যক্তিই আমেরিকার নাগরিক”। তবে ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন, “এই নিয়ম বদলাতে হবে।”

উল্লেখ্য, আমেরিকার নাগরিকত্ব-গ্রিনকার্ড অর্জনের একটি সহজ এবং জনপ্রিয় পথ হচ্ছে আমেরিকার ভূখণ্ডে সন্তান জন্মদান। কারণ আমেরিকার আইন অনুযায়ী, কোনও শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়া মাত্র তাকে আমেরিকার নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয় এবং ওই শিশুর বয়স ১৮ পার হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে বড় করা এবং দেখাশোনা করার জন্য তার বাবা-মাকে বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়।

আর একবার বৈধ বসবাসের অনুমতি পেলে নাগরিকত্ব ও গ্রিনকার্ড প্রাপ্তির পথও অনেক সহজ হয়। আর তাই প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্পের এই আদেশ আমেরিকার বসবাসকারী বৈধ নথিবিহীন অভিবাসীদের জন্য বড় ধাক্কা।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading