এভারেস্টে আরোহণের ফি ৩৬ শতাংশ বাড়ছে

এভারেস্টে আরোহণের ফি ৩৬ শতাংশ বাড়ছে

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫, আপডেট ১১:৫০

এভারেস্ট পর্বতে আরোহণের ফি ৩৬ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে নেপাল। একই সঙ্গে দেশটির অন্যান্য পর্বতে আরোহণের ফি-ও বিভিন্ন মৌসুমের জন্য বিভিন্ন হারে বাড়ানো হচ্ছে। এপ্রিল-মে মৌসুম থেকে এটা কার্যকর হবে।

প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো পর্বতারোহণের ফি বাড়ানোর ঘোষণা দিল নেপাল। আজ বুধবার দেশটির পর্যটন বিভাগের মহাপরিচালক নারায়ণ প্রসাদ রেগমি এই ঘোষণা দেন।

নারায়ণ প্রসাদ রেগমির ঘোষণা অনুযায়ী, এখন এভারেস্টে আরোহণ করতে গুনতে হবে ১৫ হাজার ডলার। আগে তা ছিল ১১ হাজার ডলার। এই ফি প্রায় এক দশক ধরে কার্যকর ছিল।

নারায়ণ প্রসাদ রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আরোহণ ফি দীর্ঘ সময় পর্যালোচনা করা হয়নি। এখন তা করা হলো।’

এভারেস্টে আরোহণের সবচেয়ে জনপ্রিয় মৌসুম এপ্রিল-মে মাস। আগামী এই মৌসুম থেকে সাউথ ইস্ট রিজ বা সাউথ কোল রুট ধরে যাঁরা এভারেস্টে আরোহণ করবেন, তাঁদের এই বাড়তি ফি গুনতে হবে। ১৯৫৩ সালে নিউজিল্যান্ডের স্যার এডমন্ড হিলারি এবং শেরপা তেনজিং নোরগে এই পথ বেয়ে প্রথম এভারেস্ট জয় করেছিলেন।

সেপ্টেম্বর-নভেম্বর ও ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি এভারেস্ট আরোহণের কম জনপ্রিয় মৌসুম। এই দুই মৌসুমে ওঠার জন্য এখন থেকে যথাক্রমে ফি গুনতে হবে ৭ হাজার ৫০০ ও ৩ হাজার ৭৫০ ডলার।

এভারেস্টসহ বিশ্বে সর্বোচ্চ পর্বতের আটটি হিমালয় কন্যা খ্যাত নেপালে। এসব পর্বতে প্রতিবছর শত শত বিদেশি পর্বতারোহী ওঠার চেষ্টা করেন। পর্বতারোহীদের থেকে যে ফি নেওয়া হয়, তাই দেশটির রাজস্ব ও কর্মসংস্থানের বড় উৎস।

পর্বত আরোহণের আয়োজন করে এমন কিছু সংগঠন বলেছে, ফি বাড়ানোর আলোচনা গত বছর থেকে চলছে। ফি বাড়ানোর কারণে পর্বতারোহী কমার শঙ্কা নেই। প্রতিবছর প্রায় ৩০০ ব্যক্তিকে এভারেস্টে আরোহণের অনুমতি দেওয়া হয়।

অস্ট্রিয়াভিত্তিক পর্বতারোহণ সংগঠক ফার্টেনবাখ অ্যাডভেঞ্চারসের লুকাস ফার্টেনবাখ বলেন, ফি বাড়ানোর বিষয়টি প্রত্যাশিত ছিল। নেপাল সকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা বোধগম্য। আমার বিশ্বাস, বাড়তি ফির একটি অংশ পরিবেশ রক্ষা ও এভারেস্টের সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হবে।

কিন্তু নেপালের পর্যটন বিভাগের মহাপরিচালক নারায়ণ প্রসাদ রেগমি বাড়তি অর্থ ওই কাজে ব্যবহার করা হবে কি না, তা নিয়ে কিছু বলেননি।

সমালোচকেরা বলছেন, এভারেস্টে প্রতিবছর অতিরিক্ত পর্বতারোহীকে ওঠার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু পর্বতটি পরিষ্কার ও নিরাপদ রাখার জন্য তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। এতে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গটি নানা ধরনের ঝুঁকিতে পড়ছে।

এভারেস্ট ফেরত পর্বতারোহীরা বলেছেন, পর্বতটি ক্রমশ শুকিয়ে যাচ্ছে, তুষার ও বৃষ্টিপাত কমছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যান্য কারণে এমনটি হচ্ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading