ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ফ্লপে শীর্ষে নেইমার
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৫, আপডেট ১৩:৩০
এতদিন ছিল গুঞ্জন, তবে এখন তা সত্যি। গত মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতি দিয়ে নেইমারের ক্লাব ছাড়ার খবর নিশ্চিত করেছে আল হিলাল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নেইমার আল হিলালকে যা দিয়েছেন, সে জন্য তাকে ধন্যবাদ ও সাধুবাদ এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভকানা জানাচ্ছি।’ তবে মাঠের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেইমারের অবদান হতাশাজনকই বটে।
২০২৩ সালের গ্রীষ্মে ৯ কোটি ইউরোতে আল হিলালে যোগ দেন নেইমার। প্যারিস ছেড়ে সৌদিতে যোগ দিয়ে বেশ চমকই দিয়েছিলেন তিনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটাতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি এই ব্রাজিলিয়ান। আল হিলালে তার পুরো গল্পটাই যে হতাশার।
সৌদি ক্লাবে যোগ দিতে না দিতেই গুরুত্বর চোটে পড়েন নেইমার। সেই ইনজুরিতে তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে দীর্ঘ ১১ মাস। এরপর অবশ্য একবার মাঠে ফিরেছিলেন, তবে সেখানেও হতাশার গল্প। এরপর আবারও তিনি ছিটকে যান লম্বা সময়ের জন্যই। সব মিলিয়ে দীর্ঘ ১৮ মাস তাকে থাকতে হয়েছে মাঠের বাইরে। আর এই দুই বছরে সব মিলিয়ে নেইমার ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ৭টি।
আল হিলাল নেইমারকে যে পরিমাণ অর্থ দিয়েছে, সেই হিসেব করলে তার জন্য প্রতি ম্যাচে ক্লাবটির খরচ করেছে ১ কোটি ২৮ লাখ ইউরো। ফুটবল ইতিহাসে আর কোনও খেলোয়াড়ের পেছনে ম্যাচপ্রতি এত টাকা খরচ করতে হয়নি কোনও ক্লাবকে। তবে ফুটবল ইতিহাসে আরও কিছু খেলোয়াড় আছে, তাদের পেছনেও বেশ মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে ক্লাবগুলো।
এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন ইতালির ফুটবলার মাতিয়া কালদারা। ২০১৮ সালে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ইউরোতে তাকে কিনেছিল এসি মিলান। তবে সব মিলিয়ে ক্লাবটিতে মাত্র তিনটি ম্যাচই খেলেছিলেন এই ডিফেন্ডার। অর্থাৎ, ম্যাচপ্রতি তার পেছনে খরচ ১ কোটি ২৬ লাখ ইউরো।
এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছে হুগো একিটিকে। ২০২৩ সালে ২ কোটি ৮৫ লাখ ইউরোতে তাকে কিনেছিলো পিএসজি। পরে তাকে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের কাছে বিক্রি করে ১ কোটি ৬৫ লাখ ইউরো পুনরুদ্ধার করেছিল ক্লাবটি। অর্থাৎ, এই ফুটবলারের পেছনে পিএসজির খরচ ১ কোটি ২০ লাখ ইউরো। চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর ক্লাবটির হয়ে একটি ম্যাচই খেলেছেন একিটিকে।
চার নম্বরে আছেন অ্যান্থনি মোদেস্তের পেছনে চীনা ক্লাব তিয়াজিন তিয়ানহাইয়ের ম্যাচপ্রতি খরচ হয়েছিল ৯০ লাখ ৭০ হাজার ইউরো। এরপর জোনাথন বাছিনির পেছনে ম্যাচপ্রতি ৭০ লাখ ৫০ হাজার ইউরো খরচ করেছে এফসি পার্মা।
তালিকায় ৬ নম্বরে আছেন লেস্টার সিটির ফিলিপ বেনকোভিচ। তার পেছনে ম্যাচপ্রতি ক্লাবটির খরচ ৭০ লাখ ৩০ হাজার ইউরো। তার পরের স্থানে আছেন এভারটনের অ্যালান। তার পেছনে ম্যাচপ্রতি খরচ হয়েছে ৫০ লাখ ৬০ হাজার ইউরো।
ডেইভিড ওয়াশিংটনের পেছনে ম্যাচপ্রতি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ইউরো খরচ করেছে চেলসি। রোমেও লাভিয়ার পেছনেও ম্যাচপ্রতি ৪০ লাখ ৮০ হাজার ইউরো খরচ করেছে ক্লাবটি। আর্থুর জাগরের পেছনে ম্যাচপ্রতি ৩০ লাখ ৩০ হাজার ইউরো খরচ করেছে মোনাকো। তিনি আছেন এই তালিকায় ১০ নম্বর স্থানে।
ইউডি/কেএস

