রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি চলতি সপ্তাহেই!
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, আপডেট ১৫:২০
তিন বছর ধরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলতি সপ্তাহেই বন্ধ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আমেরিকা। স্থানীয় সময় শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় রাতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। রুশ বাহিনীর হামলার মধ্য দিয়ে পাল্টাতে শুরু করে বিশ্ব রাজনীতির দৃশ্যপট। তিন বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি আর প্রাণহানি হয়েছে দুই পক্ষেরই।
শনিবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আশার কথা শোনান হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট। বলেন, তিন বছর ধরে চলা এই সংঘাত বন্ধে চলতি সপ্তাহের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ডোনাল্ড ট্রাম্প।
লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, প্রেসিডেন্ট এবং তার দল এই যুদ্ধের উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার দিকে বেশ মনোযোগী।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব আরও জানান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ম্যাট ওয়াল্টজ এই সপ্তাহান্তে একটি চুক্তির জন্য দিনরাত কাজ করছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও ইউক্রেনের সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদের বিষয়ে একটি প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছেন।
সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর দায় জেলেনস্কির কাঁধে চাপালেও এবার ভিন্ন সুর ট্রাম্পের কণ্ঠে। শনিবার ওয়াশিংটনে একটি সম্মেলনে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, রাশিয়াই ইউক্রেনে আক্রমণ করেছে। তবে জেলেনস্কি এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের রুশ আক্রমণ এড়াতে পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল। একইসঙ্গে ট্রাম্প জানান, শিগগিরই খনিজ নিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে আমেরিকার চুক্তি হবে।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কড়া অবস্থান নেয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার বসতে যাচ্ছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিমা দুই নেতাই মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে কিয়েভের পক্ষে নিজেদের সমর্থনের কথা ব্যক্ত করবেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে আলোচনায় শিগগিরই ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন রুশ উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ।
রুশ রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, পুতিন-ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠকে শুধু ইউক্রেন যুদ্ধ নয়, বৈশ্বিক নানা বিষয়ে বৃহত্তর পরিসরে আলোচনাও হতে পারে।
রুশ উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এখানে প্রশ্ন হলো আমাদের দুই দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার উদ্যোগ শুরু করা, সবচেয়ে সূক্ষ্ম ও সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিস্থিতিগুলোর নিরসন করার উপায় বের করা । ইউক্রেন পরিস্থিতিসহ এ ধরনের অসংখ্য বিষয় রয়েছে।
ইউডি/এআর

