পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক আবিষ্কার, মিশে যাবে মাটি-পানিতে

পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক আবিষ্কার, মিশে যাবে মাটি-পানিতে

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০৯ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১০:০০

দোকানের খাবারের প্যাকেট কিংবা পানীয়র বোতল; একবার ব্যবহারযোগ্য এমন প্লাস্টিক অনেক মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এটা বর্তমানে প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য বড় সমস্যা।

প্রত্যেক বছর লাখ লাখ টন প্লাস্টিকের শেষ গন্তব্য হয় সমুদ্রে; যার বেশিরভাগই বায়োডিগ্রেডেবল নয়। যে কারণে এই প্লাস্টিক ভেঙে গিয়ে কাগজ কিংবা খাবারের মতো পচে যায় না, বরং শত শত বছর ধরে পরিবেশের মাঝে টিকে থাকে। পানীয়র বোতলের মতো বড় প্লাস্টিক ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হলে, সেগুলোকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এই মাইক্রোপ্লাস্টিক বন্যপ্রাণী খেয়ে ফেলতে পারে।

বিজ্ঞানী ও উৎপাদকরা বছরের পর বছর ধরে প্রচলিত প্লাস্টিকের পরিবেশ বান্ধব বিকল্পের সন্ধান করে আসছেন। এবার জাপানের একদল গবেষক বলেছেন, তারা এমন এক ধরনের প্লাস্টিক তৈরি করেছেন; যা একেবারে সমুদ্রে দ্রবীভূত হবে।

বিশ্বে এখনও পুনর্ব্যবহারযোগ্য কিছু প্লাস্টিক আছে। তবে এসব প্লাস্টিকের প্রধান সমস্যা হলো, এই প্লাস্টিক যখন সমুদ্রের পানিতে চলে যায়, তখন সেগুলো পানিতে দ্রবীভূত হয়ে যায় না। আবার কিছু প্লাস্টিক আছে যা ভেঙে না গিয়ে ৫০০ বছরের বেশি সময় পর্যন্ত পানিতে টিকে থাকতে পারে।

এই সমস্যার সমাধানের জন্য জাপানের রিকেন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা এমন এক ধরনের প্লাস্টিক তৈরি করেছেন; যা শক্ত থাকবে এবং মাটি ও সমুদ্রের পানির মতো পরিবেশে পুরোপুরি মিশে যাবে। এমনকি এই প্লাস্টিকের কোনও মাইক্রোপ্লাস্টিক অবশিষ্ট থাকবে না।

বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, নতুন এই প্লাস্টিক লবণপানিতে রাখার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভেঙে যেতে শুরু করে। এছাড়া মাটিতে রাখা হলে নতুন এই প্লাস্টিক গলে গিয়ে একটি রাসায়নিক উপাদান তৈরি করে; যা সার হিসেবে মাটিকে উর্বর রাখতে সহায়তা করে।

জাপানি এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বিজ্ঞানী তাকুজো আইদা। তিনি বলেছেন, নতুন এই উপাদান দিয়ে আমরা প্লাস্টিকের নতুন একটি পরিবার বানিয়েছি; যা শক্তিশালী, স্থিতিশীল, পুনর্ব্যবহারযোগ্য। বহুমুখী কাজে ব্যবহারের উপযোগী এই প্লাস্টিকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কোনও ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি করে না।

সূত্র: বিবিসি।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading