ঢাকা থেকে ঈদযাত্রায় ভোগাতে পারে ৫ মহাসড়ক
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১০ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ০৯:১৫
বরাবরই ঈদের সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যানজটের খবর পাওয়া যায়। এতে দীর্ঘ ভোগান্তিতে পরেন যাত্রীরা। আসন্ন ঈদুল ফিতরে দেশের ৫টি মহাসড়কে যানজট হতে পারে। মহাসড়কের এমন ১৫৯টি সম্ভাব্য স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। যানজটের আশঙ্কায় জননিরাপত্তা বিভাগ এসব স্পটে ঈদের আগে ও পরে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে সুপারিশ করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে।
এছাড়া জাতীয় মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ করিডোরগুলোর সড়ক ঈদের ৭ দিন আগেই মেরামত বা সংস্কার করতে বলা হয়েছে। এসব সড়কের মধ্যে রয়েছে- ঢাকা বাইপাস (মদনপুর-ভুলতা-ভোগড়া-এন-১০৫), নবীনগর-চন্দ্রা (এন-৪৫০), ঢাকা-জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ (এন-৩), ঢাকা-জয়দেবপুর (এন-৩), ঢাকা (ভোগড়া)-চন্দ্রা-এলেঙ্গা, এলাঙ্গা-হাটিকুমরুল-বগুড়া-রংপুর, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-গোপালগঞ্জ-খুলনা, ভাঙ্গা-বরিশাল। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় থাকা সড়কগুলো।
রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে অনুষ্ঠিত হওয়া ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সড়ক/মহাসড়ক, সেতু ও রেলপথের যাত্রীদের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা থেকে এসব বিষয় জানা যায়। সভায় থাকা দায়িত্বশীল সূত্র ঢাকা পোস্টকে জানায়, সভার শুরু আলোচনা উঠে সড়ক পথ নিয়ে। পরে আলোচনা হয় সেতু নিয়ে। এবং সর্বশেষে আলোচনা হয় রেলপথ নিয়ে।
সভার শুরুতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ঈদে এক কোটি ২০ লাখের মতো মানুষ ঢাকা ছেড়ে যায় এবং ৩০ লাখের মতো মানুষ ঢাকায় আসে। এই দেড় কোটি মানুষের ঈদ আনন্দের যাতায়াত নানা কারণে নিরানন্দের হয়ে যায়। সবচেয়ে খারাপ হয় যখন সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। রেলেও মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনা হয়। যারা ঈদ আনন্দ করতে পরিবার নিয়ে যাতায়াত করেন, তাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতেই আজকের এই সভা।
সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে সারা দেশে যানজটের জন্য ১৫৯টি স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। তারমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের আছে ৪৯টি স্পট। ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কে আছে ৫৪টি স্পট। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আছে ৬টি স্পট। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে আছে ৪২টি স্পট। এবং ঢাকা-পাটুরিয়া-আরিচা মহাসড়কে আছে ৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্পট।
এর মধ্যে ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজটের বিষয়ে বেশি আশঙ্কা করা হয়। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অনেক জায়গায় খানাখন্দ আছে। এছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে বাজার বসে যানজট সৃষ্টি হয়। লালমনিরহাট-বুড়িমারী দুই লেনের সড়কের অবস্থা খুবই শোচনীয়। ঈদের আগে মেরামত না করলে যান চলাচল থমকে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন লালমনিরহাট, টাঙ্গাইল ও নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসকরা। মহাসড়ক যানজট মুক্ত রাখার বিষয়ে আলোচনায় উঠলে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্য কাজ করবে। তবে আমরা দেখেছি ৩৮ থেকে ৩৯টি সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। যেগুলো দ্রুত মেরামত করা দরকার। আর কিছু জায়গায় যানজট হতে পারে, সেগুলো আমরা দেখব।
এমন সময় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান বলেন, কাঞ্চন ব্রিজ থেকে ভুলতা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সার্ভিস লেন আগামী ২৫ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন করার আপ্রাণ চেষ্টা করছি। এছাড়া সড়কের যে-সব জায়গায় খানাখন্দ বা খারাপ আছে সেগুলো ঈদের আগেই মেরামত কাজ শেষ হয়ে যাবে। ঈদের আগে সড়ক ঠিক হয়ে যাবে। আগামী ২০ তারিখের মধ্যেই এলেঙ্গা-রংপুর ফোর লেন খুলে দেওয়া হবে। পরে সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান আগামী ১৫ রোজার মধ্যে সব রাস্তার সংস্কার কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।
ইউডি/সিফাত

