নেপালে ক্ষমতাচ্যুত রাজাকে পুনর্বহালের দাবি

নেপালে ক্ষমতাচ্যুত রাজাকে পুনর্বহালের দাবি

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১৪: ৪৬

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে হাজারো সমর্থক। এসময় তারা রাজাকে পুনর্বহালের দাবি জানান। সেই সঙ্গে বিলুপ্ত রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও হিন্দুধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম করার দাবি তোলে। রবিবার (৯ মার্চ) রাজাকে স্বাগত জানাতে কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ১০ হাজার মানুষের জমায়েত হয়। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।

সাবেক এই রাজা দেশটির পশ্চিমাঞ্চল সফর শেষে রাজধানীতে ফেরায় তাকে স্বাগত জানানো হয়। এসময় জনসমাবেশে উপস্থিত জনতা নানা স্লোগান দেয়- রাজপ্রাসাদ খালি করো, রাজাকে ফিরিয়ে আনো! ফিরে এসো রাজা, দেশকে বাঁচাও! দীর্ঘজীবী হোক আমাদের প্রিয় রাজা! আমরা রাজতন্ত্র চাই! রাজাতে অভিনন্দন জানাতে আসা জনতা জানিয়েছেন, তারা দেশের আরও অবনতি রোধ করতে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন চাচ্ছেন।

সমাবেশে অংশ নেওয়া ৭২ বছর বয়সী থির বাহাদুর ভাণ্ডারি বলেন, আমরা এখানে রাজাকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানাতে এসেছি। আমরা তাকে সিংহাসনে পুনর্বহাল করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব। ৫০ বছর বয়সী কাঠমিস্ত্রি কুলরাজ শ্রেষ্ঠ বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ব্যাপক দুর্নীতি। ক্ষমতাসীন রাজনীতিবিদরা দেশের জন্য কিছুই করছেন না।

তিনি আরও জানান, ২০০৬ সালে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু এখন রাজতন্ত্রকে ফেরত চান।
তার মতে, আমি ভেবেছিলাম, রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হলে দেশ উন্নতি করবে। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। দেশ আরও খারাপ অবস্থায় গেছে, তাই আমি আমার মত বদলেছি।

২০০১ সালে নেপালের তৎকালীন রাজা বীরেন্দ্র বীর বিক্রম শাহকে সপরিবার হত্যা করা হয়। বড় ভাই বীরেন্দ্র নিহত হওয়ার পর ওই বছরই রাজা হিসেবে জ্ঞানেন্দ্রর অভিষেক হয়। বর্তমানে ৭৭ বছর বয়সী জ্ঞানেন্দ্র ২০০৫ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তখন তাঁর নির্বাহী ও রাজনৈতিক ক্ষমতা ছিল না।

তবে ২০০৫ সালে জ্ঞানেন্দ্র পুরোপুরিভাবে ক্ষমতা দখল করেন। বলেন যে রাজতন্ত্রবিরোধী মাওবাদী বিদ্রোহীদের পরাস্ত করার জন্য তিনি কাজ করছেন। রাজা জ্ঞানেন্দ্র তখন সরকার ও পার্লামেন্ট ভেঙে দেন, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের কারাগারে পাঠান। তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং দেশ শাসনের কাজে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করেন।

এসব পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজা জ্ঞানেন্দ্রর বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। একপর্যায়ে ২০০৬ সালে জ্ঞানেন্দ্র একটি বহুদলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। মাওবাদীদের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে সরকার। এর মধ্য দিয়ে একদশক ধরে চলা গৃহযুদ্ধের অবসান হয়।
২০০৮ সালে নেপালের ২৪০ বছরের পুরোনো হিন্দু রাজতন্ত্রকে বিলুপ্ত করার বিষয়ে দেশটির পার্লামেন্টে ভোট হয়। ভোটাভুটিতে রাজতন্ত্র বিলোপের পক্ষে রায় এলে রাজা জ্ঞানেন্দ্র পদত্যাগ করেন। এরপর নেপালে ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

তখন থেকে নেপাল ১৩টি সরকারকে পেয়েছে এবং দেশটির অনেকে প্রজাতন্ত্রব্যবস্থার প্রতি হতাশ হয়ে পড়েছেন। নাগরিকদের অভিযোগ, গণতন্ত্র অর্থনৈতিক উন্নতি আনতে ব্যর্থ হয়েছে, বরং দুর্নীতির মাত্রা বেড়েছে। রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ এখনও রাজতন্ত্র পুনর্বহালের দাবির বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। বিশ্লেষকদের মতে, জনসমর্থন বাড়লেও, জ্ঞানেন্দ্রের এখনই ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

মি/গাজী

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading