পেটে গণ্ডগোলের আটটি গোপন লক্ষণ
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১৫:১০
হজমতন্ত্রের সমস্যা থাকার হাজারও কারণ থাকতে পারে। সেগু্লোর কোনোটি প্রকাশ পায় পেট খারাপের মধ্য দিয়ে। আবার কিছু থাকে একেবারই অজানা। শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপরেও প্রভাব ফেলে পেটের সমস্যা। আর লুকিয়ে থাকা অসুবিধাগুলো বোঝার জন্য রয়েছে নানান উপসর্গ।
স্বাভাবিকের চাইতে বেশি বিরক্ত থাকা : মানসিক চাপ বা উৎকণ্ঠায় পেট খারাপ হওয়ার বিষয়টা অনেকেই জানে। তবে উল্টোটাও ঘটে। নিউ ইয়র্ক’য়ের ‘লেনক্স হিল হসপিটাল’য়ের গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট অদিত্যা শ্রীনিভাসান এই বিষয়ে বলেন, “বিশেষ করে হজমতন্ত্র যখন খারাপ অবস্থায় থাকে তখন মস্তিষ্কে মেজাজ খারাপ হওয়ার সংকেত পাঠায়। হজমতন্ত্রে থাকা ‘নিউরন’ বা স্নায়ুকোষ সারা শরীর জুড়েই এই ধরনের সংকেত পাঠাতে পারে।” তাই পেটে সমস্যা থাকলে মেজাজও খারাপ থাকতে পারে। যা থেকে মনে কাজ করে অস্বস্তি ও উৎকণ্ঠা।
কারণ ছাড়াই অবসন্ন বোধ : যদি রাতে ভালো মতো ঘুম দেওয়ার পর ক্লান্তি কাজ করে তবে সেটা হতে পারে পেটে গণ্ডগোল থাকার লক্ষণ।
“হজমতন্ত্র ভালোভাবে কাজ না করলে পুষ্টি উপাদান শরীরে ভালো শোষিত হয় না। ফলে দুর্বলতা কাজ করে”- রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করেন এই ডা. শ্রীনিভাসান। আর ভালো মতো পুষ্টি শোষিত না হলে মাথায় হালকা লাগতে পারে। যা ‘ব্রেইন ফগ’ নামে পরিচিত। এক্ষেত্রে মনোযোগ ঘাটতি, ঘুমের সমস্যা ইত্যাদি দেখা দেয়।
মাথাব্যথা : পুষ্টি শোষণ করা যেখানে শরীরের জন্য কষ্টকর হয় তখন মাথাব্যথাও দেখা দেয়। যা অন্ত্র ও মস্তিষ্ক সম্পর্কিত সমস্যা ও প্রদাহের কারণে হয়ে থাকে – ব্যাখ্যা করেন এই অন্ত্র-বিশেষজ্ঞ। ‘দি জার্নাল অফ হেডেক অ্যান্ড পেইন’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই চিকিৎসক জানান, মাইগ্রেইন কিছুটা জটিল রোগ। তারপরও পেটের ব্যথার সাথে মাইগ্রেইনের সম্পর্ক আছে। একে বলে ‘অ্যাবডোমিনাল মাইগ্রেইন্স’।
পেটে সমস্যা ও মাইগ্রেইন একসাথে দেখা দেয় এই অবস্থা হলে।
কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটফোলাভাব : অন্ত্রের মাইক্রোবিয়াল’য়ের অসামঞ্জস্যতা থেকে হজমতন্ত্রের সাধারণ অকার্যকারিতা তৈরি হয়। এর ফলে দেখা দেয় কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটফোলাভাব। একই প্রতিবেদনে মার্কিন পুষ্টিবিদ জোয়ানা সালাজার এই বিষয়ে বলেন, “কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটফোলা সমস্যায় ভুগলে কী খাচ্ছেন সেদিকে নজর দিন। অনেক সময় পর্যাপ্ত পানি পান না করলেও এই সমস্যা দেখা দেয়।” তবে সাত দিনের বেশি কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটফোলাভাব ঠিক না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ : অবাক করার মতো বিষয় হলেও, পেটে গণ্ডগোল থাকার একটি লক্ষণ হল নিঃশ্বাসে বাজে গন্ধ। বিশেষ করে দেহ থেকে ভালো মতো বর্জ্য বের না হলে, মানে অনেকদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগলে শরীরে বিষাক্ততা তৈরি হয়। যা দুর্গন্ধ যুক্ত নিঃশ্বাস তৈরি করে।
অনিয়মিতভাবে পেট পরিষ্কার হওয়া : যদিও একেক জনের অভ্যাস একেক রকম। তবে সার্বিকভাবে দিনে তিনবার থেকে প্রতি তিনদিনে একবার পেট পরিষ্কার হওয়াকে স্বাভাবিক ধরা হয়। ডা. শ্রীনিভাসান বলেন, “তারপরও মলত্যাগের পরিমাণ কমা বা বৃদ্ধি পাওয়া আর দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা তৈরি করলে বুঝতে হবে পেটে সমস্যা চলছে।”
নতুন খাবারে অস্বস্তি : সালাজার বলেন, “পেটে সমস্যা দেখা দিতে পারে খাবারের সংবেদনশীলতা থেকে। যেমন একটি উদাহারণ হল, পিচ্ছিল অন্ত্র।” এরফলে পেটফোলা, গ্যাস হওয়া, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ও বমিবমিভাব হয়।
ত্বকের সমস্যা : নানান কারণে ত্বকে অ্যালার্জি দেকা দিতে পারে। তবে পেটে সমস্যা থাকলেও চামড়ায় অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। এর কারণ হল, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সাথে অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম’য়ের সম্পৃক্ততা। যা স্বাস্থ্য ত্বকের জন্য অনিবার্য। যদি অন্ত্রের পরিবেশ ও মাইক্রোবায়োম’য়ে অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয় তখন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় হয়। যে কারণে ত্বকে নানান সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে খুশকিও হতে পারে।
ডা. শ্রীনিভাসান বলেন, “প্রক্রিয়াজাত ও লবণাক্ত খাবার বেশি খাওয়ার কারণে এই পেটে যে সমস্যায় সেখান থেকে সারা শরীরে ও ত্বকেও বাজে প্রভাব পড়ে।”
মি/গাজী

