‘ইউক্রেইন নিয়ে ঐক্য’ দেখাতে আমেরিকা ছাড়াই বৈঠক পশ্চিমা সেনাপ্রধানদের
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১২ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১৫:৪০
যুক্তরাষ্ট্র যখন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে তখন তাদেরই মিত্র ৩০টিরও বেশি দেশের সেনাপ্রধান ইউক্রেইন ঘিরে নিজেদের মধ্যকার ঐক্য অটুট দেখাতে ফ্রান্সের প্যারিসে বৈঠক করেছেন।
মঙ্গলবার হওয়া বিরল এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র না থাকলেও ছিল নেটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অনেক দেশ, আরও ছিল জাপান, অস্ট্রেলিয়া।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠতা দেখে উদ্বিগ্ন এ দেশগুলোর সেনাপ্রধানরা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ইউক্রেইন যুদ্ধে ‘আরও দায়িত্ব নেওয়ার’ আগ্রহ দেখিয়েছেন, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এদিনের আলোচন্য অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়ার সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতি হলে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনসহ ইউক্রেইনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে কী কী বিকল্প ও সক্ষমতা আছে তা যাচাই করা এবং কিইভের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক শক্তি বজায় রাখা।
“আমরা এটা একত্রে করতে পারি, এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই পারি- এটাই রাজনৈতিক বার্তা। তবেও এটা স্পষ্ট যে অনেক কিছুই আছে যা আমরা করতে পারি না, আর রাশিয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হলো, আমাদের কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকতে হবে,” বলেছেন প্যারিসে আলোচনার সঙ্গে জড়িত এক ইউরোপীয় কূটনীতিক। মঙ্গলবারের বৈঠকটি ছিল মূলত পূর্ব-প্রস্তুতিমূলক, বলেছেন তিনি।
এ বৈঠকে ৩৪টি দেশের সেনাপ্রধান অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রকে এ বৈঠকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন এক সামরিক কর্মকর্তা। ট্রাম্প মিত্রদের দূরে সরিয়ে রাখলেও ইউরোপ ও অন্য অংশীদাররা যে নিজেরাই নিজেদের দায়িত্ব নিতে পারবে, আমন্ত্রণ না জানিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ইঙ্গিতই দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তা বলছেন, বৈঠকে জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর উপস্থিতিই বলে দিচ্ছে ওয়াশিংটনের পুরনো মিত্রদের মধ্যে এখনকার ট্রাম্প প্রশাসন নিয়ে কী ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। নতুন মার্কিন প্রশাসন কখন কী করে বসে, তা নিয়ে জাপান ও অস্ট্রেলিয়া উভয়ই ব্যাপক অনিশ্চয়তায় ভুগছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই ট্রাম্প শান্তি চুক্তি করতে ইউক্রেইনকে তুমুল চাপ দিয়ে আসছেন। কিইভের সঙ্গে কথা বলার আগেই তিনি ইউক্রেইনকে নেটো সদস্যপদ না দেওয়াসহ রাশিয়ার অনেক দাবির পক্ষে অবস্থানও নিয়েছেন। রাশিয়া ইউক্রেইনের নিরস্ত্রীকরণও চাইছে, ট্রাম্প অবশ্য এ বিষয়ে এখনও কোনো অবস্থান নেননি।
মঙ্গলবারের বৈঠকের আগে ফরাসী প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ক্ষেত্রে ইউক্রেইনে শক্তিশালী সেনাবাহিনী থাকার গুরুত্বের কথা জোর দিয়ে বলেছিলেন। “নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় প্রথমেই থাকবে ইউক্রেইনের সেনাবাহিনী, এই নীতির ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে ইউক্রেইনের সেনাবাহিনী কেমন হবে সে চিন্তা করাই অগ্রাধিকারে থাকবে। আমরা যে কোনো আকারে নিরস্ত্রীকরণ প্রত্যাখ্যান করবো,” প্যারিসে এক নিরাপত্তা সম্মেলনে বলেন লেকর্নু।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবারই বলেছেন, তিনি ইউক্রেইনকে নিরস্ত্র দেখতে চান। তবে কিইভ বলছে, এমন কিছু করলে তারা ভবিষ্যতে আরও হামলার মুখে পড়তে পারে।
মি/গাজী

