প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে: বিশ্ব বাজারে ইতিবাচক ধারায় পোশাক খাত
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৬ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১৪:৩০
অনেক দিন পর আমেরিকার বাজারে পোশাক রপ্তানিতে ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার আমেরিকা। এ বাজারে গত বছর তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে বাংলাদেশ।
২০২৪ সাল শেষে বড় প্রবৃদ্ধি না হলেও ইতিবাচক ধারায় ফেরে। সব মিলিয়ে গত বছর বাংলাদেশ থেকে ৭৩৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানি ২০২৩ সালের তুলনায় শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৩ সালে আমেরিকার বাজারে রপ্তানি ২৫ শতাংশ কমে ৭২৯ কোটি ডলারে নেমেছিল।
চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বিশ্বে পোশাক খাতের প্রধান বাজারগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানির প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছে। ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার ফলে এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গত জানুয়ারিতে এ বাজারে ৮০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা। এ রপ্তানি গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় ৪৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেশি। প্রবৃদ্ধির এ হার চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ইন্ডিয়াসহ শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গত জানুয়ারিতে আমেরিকার আমদানিকারকরা ৭২০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। গত বছরের জানুয়ারিতে তারা আমদানি করেছিল ৬০৩ কোটি ডলারের পোশাক। তার মানে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৈরি পোশাক আমদানি বেড়েছে সাড়ে ১৯ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), আমেরিকা (ইউএস) এবং কানাডার মতো প্রধান রপ্তানি গন্তব্যগুলিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পাশাপাশি ব্রিটেন ও অন্যান্য অপ্রচলিত বাজারেও তুলনামূলকভাবে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রæয়ারি সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি বিশ্বব্যাপী ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে ২৬ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ শেয়ার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে, যেখানে মোট রপ্তানি ১৩ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার। আমেরিকায় রপ্তানি ৫ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির ১৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। কানাডায় রপ্তানি হয়েছে ৮৪৫ মিলিয়ন ডলার, যা ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার দখল করেছে।
ব্রিটেনেও গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে রয়েছে, যেখানে রপ্তানি ২ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা মোট রপ্তানির ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির দিক থেকে ইইউতে পোশাক রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়েছে, আমেরিকা ১৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং কানাডায় ১৪ দশমিক ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে ব্রিটেনে প্রবৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম, ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার জার্মানি, যেখানে ৩ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এছাড়া স্পেনে ২ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন, ফ্রান্সে ১ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন, ইতালিতে ১ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন, পোল্যান্ডে ১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন এবং নেদারল্যান্ডসে ১ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় জার্মানিতে রপ্তানি ১১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, নেদারল্যান্ডসে ২৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ, পোল্যান্ডে ১২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ, ডেনমার্কে ১৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং সুইডেনে ২১ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত অপ্রচলিত বাজারেও প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে, যেখানে মোট রপ্তানি ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে জাপানে সবচেয়ে বেশি ৮৩৯ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, এরপর অস্ট্রেলিয়ায় ৫৮২ মিলিয়ন এবং ভারতে ৪৭৮ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়েছে। এছাড়া, তুরস্ক ও মেক্সিকোতে যথাক্রমে ৩০৫ মিলিয়ন ও ২২৯ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। প্রবৃদ্ধির দিক থেকে ইন্ডিয়াতে ১৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ, মেক্সিকোতে ২৫ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং তুরস্কে ৩২ দশমিক ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে রাশিয়া, কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়ায় রপ্তানির হার কমেছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেছেন, বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো প্রধানত ইউরোপ ও আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল। তবে অপ্রচলিত বাজারেও সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে কৌশলগত গবেষণা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব।
তিনি বলেন, এই বাজারগুলোতে প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা গেলে প্রধান বাজারগুলোর ওপর নির্ভরতা কমবে। বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি পরিবর্তিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বিনিয়োগের প্রয়োজন।
ইউডি/ আরকে

