বেশিরভাগ পণ্যের দাম কমলেও চালে অস্বস্তি

বেশিরভাগ পণ্যের দাম কমলেও চালে অস্বস্তি

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ২১ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১৫:৩০

বিগত বছরগুলোর তুলনায় চলতি বছর রমজানে অধিকাংশ পণ্যের দাম নিম্নমুখী। ক্রেতারা স্বস্তি কিনছেন পছন্দের পণ্যসামগ্রী। কিন্তু চালের দামে থেকে গেছে অস্বস্তি। রাজধানীর বাজারে প্রায় সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। শ্রেণিভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে চালের দাম।

দুই সপ্তাহে মিনিকেট চালের দাম কেজিতে পাঁচ থেকে আট টাকার মতো বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, মিনিকেটের দাম অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় আরেক সরু চাল নাজিরশাইলের দামও কেজিতে এক–দুই টাকা বাড়তি।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে এখন অস্বস্তি শুধু চালের দামে। এখন রাজধানীর বাজারে ভালোমানের সরু চাল কিনতে প্রতি কেজিতে দাম দিতে হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। মাঝারি চালের দাম ৭০ থেকে ৭৬ টাকা আর মোটা চাল কিনতে ৫৮ থেকে ৬২ টাকা দিতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে চালের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার নওগাঁ ও কুষ্টিয়ায় দাম বেড়েছে। কুষ্টিয়ায় গত ১৫ দিনে কেজিতে মিনিকেট চালের দাম বেড়েছে সাত টাকা। মিলগেটে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৮৪ টাকা। অন্যদিকে নওগাঁয় এক সপ্তাহে মিনিকেট চালের দাম কেজিতে তিন–চার টাকা বেড়েছে।

চালকলের মালিকেরা ধানের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, বোরো ধান বাজারে না আসা পর্যন্ত এ সংকট থাকবে। তবে স্থিতিশীল রয়েছে মোটা চালের দাম। ভারত থেকে কিছু চাল আসছে। তা মূলত কাটারিভোগ জাতের। দাম প্রতি কেজি ৭০–৭২ টাকা।

বাজার বিশ্লেষকরা বলেন, বাজারের অন্যান্য পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও চালের বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেনি সরকার। দাম বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

হঠাৎ করে দফায় দফায় চালের দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। সংসারে বাড়তি খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ। অসাধু চালকল মালিকদের কারসাজি ঠেকাতে বাজারের প্রতি নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ভোক্তারা। তবে চালকলের মালিকেরা ধানের মূল্য বৃদ্ধি ও ধান সংকটকে দায়ী করছেন।

চালের খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত ছয় মাসে তিন দফা চালের দাম বেড়েছে। সবকিছু হিসাবে নিলে কেজিপ্রতি প্রায় ৮ থেকে ১০ টাকা দাম বেড়েছে। এরমধ্যে শুধু একদফা দুই-এক টাকা কমেছিল।

শনিরআখড়ার জোনাকি স্টোরের মালিক ঢাকা মেইলকে বলেন, শেষ গত এক সপ্তাহে আবারও চালের দাম বেড়েছে। রশিদ, উৎসব ডায়মন্ড, মোজাম্মেল ইত্যাদি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সরু মিনিকেট চালের ২৫ কেজির বস্তায় ৭০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিনিকেট চালের মজুত শেষের দিকে। বোরো মৌসুমে এ চালের উৎপাদন হবে। এখন বোরো ধান কৃষকের খেতে রয়েছে। বোরোতে ভালো ফলন হলে দাম কমতে পারে।

মাঝারি ও মোটা চালের দাম বাড়েনি। অবশ্য সব ধরনের চালের দাম আগে থেকেই চড়া। সরকার নিজে আমদানি করছে, বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করছে, কিন্তু চালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমছে না।

তিনি বলেন, আসলে ৮০ টাকার নিচে কোনো ভালো মানের চাল পাওয়া যায় না। আর বড় বড় ব্র্যান্ডের মিনিকেটের দাম আরও বেশি, ৯০ থেকে ৯২ টাকার আশপাশে। ফলে মধ্যম আয়ের মানুষকে ৮০ টাকা কেজি চাল কিনতে হচ্ছে।

মোটা চালের দামও কম নয়। রামপুরাসহ হাজীপাড়া মালিবাগ মৌচাকবাজার ঘুরে অবশ্য ৫৮ টাকার নিচে কোনো মোটা সেদ্ধ চাল পাওয়া যায়নি। মোটামুটি ভালোমানের মোটা চাল কিনতে ৫৮ থেকে ৬০ টাকা দিতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষকে। একসঙ্গে বেশি পরিমাণে নিলে দু-এক টাকা কম পাওয়া যায়।

যাত্রাবাড়ীতে চাল কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী হাশেম আলী বলেন, এবছর রোজায় সবজিসহ অন্যান্য পণ্য অনেক কম দামে পাচ্ছি। কিন্তু চালের দাম চড়া। দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের মতো কম আয়ের মানুষের পক্ষে এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading