অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন পর্যালোচনাসহ ৭ সুপারিশ
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২২ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১৯:০০
কমিশন বলছে, লাগামছাড়া অনলাইনের বিস্তৃতি যেমন অনেকক্ষেত্রেই হলুদ সাংবাদিকতা, অনৈতিক ব্ল্যাকমেইলিং, নাগরিক হয়রানি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ন করছে, তেমনিভাবে সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য অস্বাভাবিক প্রতিকূলতা তৈরি করছে।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদের নেতৃত্বে অন্য সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের এক দশকে অনলাইন সংবাদ পোর্টালগুলোর নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্ট নীতি না মেনে স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতায় নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন তাদের প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে।
সে কারণে অনলাইন পোর্টালগুলোর নিবন্ধনগুলো পর্যালোচনাসহ সাতটি সুপারিশ করেছে সংস্কার কমিশন।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদের নেতৃত্বে অন্য সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেন।
এতে বলা হয়েছে, লাগামছাড়া অনলাইনের বিস্তৃতি যেমন অনেকক্ষেত্রেই হলুদ সাংবাদিকতা, অনৈতিক ব্ল্যাকমেইলিং, নাগরিক হয়রানি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ন করছে, তেমনিভাবে সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য অস্বাভাবিক প্রতিকূলতা তৈরি করছে। এর কারণ হিসেবে বিগত সরকারের অনলাইন নীতিমালা এক্ষেত্রে ‘কার্যকর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার’ কথা বলা হয়েছে। এজন্য নীতিমালা পর্যালোচনা করে তা বাস্তবায়ন ও কার্যোপযোগী করার সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিশন বলছে, “বিগত সরকারের অনলাইন নীতিমালার শর্তাবলি ঠিক করার দায়িত্ব প্রস্তাবিত সম্প্রচার কমিশনের ওপর অর্পিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সম্প্রচার কমিশন গঠন না করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় তাদের মর্জি অনুযায়ী নিবন্ধন দিয়েছে, যাতে রাজনৈতিক বিবেচনাই প্রাধান্য পেয়েছে।”
যেসব সুপারিশ করা হয়েছে
- অনলাইন পোর্টাল নিবন্ধনের নীতিমালা হালনাগাদ করা এবং এর আলোকে নিবন্ধন প্রদানের দায়িত্ব ও ক্ষমতা যেহেতু বিগত সরকারের প্রস্তাবিত সম্প্রচার কমিশনের ওপর ন্যস্ত ছিল, সেহেতু তা গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন প্রস্তাবিত স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের ওপর অর্পণ করা সমীচীন।
- গত দশকে যেসব অনলাইনের নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে, তা যেহেতু কোনো স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্ট নীতির অধীনে হয়নি বরং সরকারের স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়েছে, সেহেতু সেগুলো পর্যালোচনা প্রয়োজন। এ পর্যালোচনার দায়িত্ব স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা সমীচীন।
- অনলাইন পোর্টাল নিবন্ধনের জন্য একাধিক নিরাপত্তা সংস্থার যে তদন্ত ব্যবস্থা রয়েছে, তার অবসান প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সংবাদপত্রের ডিক্লারেশনের জন্য বিদ্যমান পুলিশের তদন্ত ব্যবস্থাই যথেষ্ট গণ্য করা যায়।
- অনলাইন পোর্টালগুলো নিবন্ধন পাওয়ার পর তার বার্ষিক নবায়ন পদ্ধতি বাতিল করা হোক।
- অনলাইন নীতিমালায় আইপিটিভি ও অনলাইন পোর্টালে সংবাদ বুলেটিন সম্প্রচার করা যাবে না- এমন নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা উচিত।
- অনলাইন পোর্টালে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার আলোকে সরকারি বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করতে হবে।
- অনলাইন পোর্টালের জন্য ট্রেড লাইসেন্সের ফি সাধারণ ট্রেড লাইসেন্সের ফির কয়েক গুণ। এটি সংবাদমাধ্যমকে নিরুৎসাহিত করার নীতি। এর অবসান হওয়া উচিত।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে যে কয়টি অনলাইনভিত্তিক নিউজ পোর্টাল রয়েছে তার মধ্যে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম অন্যতম। ২০০৫ সালে ওয়েবভিত্তিক বার্তা সংস্থা হিসেবে এর যাত্রা শুরু। বিডিনিউজ বাংলাদেশের প্রথম অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে দুই ধাপে ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। এর মধ্যে একটি গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কামাল আহমেদের নেতৃত্বাধীন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের কাজকে ‘অমূল্য’ হিসেবে তুলে ধরে মুহাম্মদ ইউনূস এই প্রতিবেদন যেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য মানুষ পড়তে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করার পরামর্শ দেন।
সাংবাদিক কামাল আহমেদের নেতৃত্বাধীন ওই কমিশনে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিসহ সদস্য ছিল নয়জন। অন্যরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতিআরা নাসরীন, সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধি দ্য ফিন্যানসিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সচিব আখতার হোসেন খান, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন ওনার্স (অ্যাটকো) এর প্রতিনিধি এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের ট্রাস্টি ফাহিম আহমেদ, মিডিয়া সাপোর্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ও সাংবাদিক জিমি আমির, দ্য ডেইলি স্টারের বগুড়া জেলা প্রতিনিধি মোস্তফা সবুজ, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ডেপুটি এডিটর টিটু দত্ত গুপ্ত, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন।
ইউডি/এআর

