কার্গো টার্মিনালে আন্তর্জাতিক বন্দরে রূপ পেল বেনাপোল

কার্গো টার্মিনালে আন্তর্জাতিক বন্দরে রূপ পেল বেনাপোল

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২৪ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১৮:০৫

বেনাপোল বন্দরের কার্গো ভেহিকেল টার্মিনালে ৪১ একর জমিতে আধুনিক সুবিধা নিয়ে এবার পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হয়েছে ইন্ডিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

জানা যায়, ২৫ একর জায়গায় কাজ শেষ হলেও সীমান্তরক্ষী বিএসএফের বাধায় টার্মিনালটির ১৬ একরে কাজ বন্ধ ছিল। বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ৩২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এই কার্গো ভেহিকেল টার্মিনালটি নির্মাণ হয়েছে সীমান্তের শূন্যরেখায় বাংলাদেশ অংশে। এখানে একসঙ্গে ইন্ডিয়ান পণ্যবাহী দেড় হাজার ট্রাক পার্কিং, ট্রাক চালকদের জন্য অত্যাধুনিক তিনটি টয়লেট কমপ্লেক্স সেবা ভবন, ইউটিলিটি ভবন, কার্গো ভবন, ফায়ার সার্ভিস ভবন রয়েছে; যা বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে সামনের দিনে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, দেশের চলমান ১৪টি বন্দরের সঙ্গে বর্তমানে ভারতের আমদানি, রফতানি বাণিজ্য হয়ে থাকে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় বেশি বাণিজ্যের চাহিদা বেনাপোল বন্দর দিয়ে। তবে বন্দরটিতে জায়গা সংকীর্ণতায় নানান প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হতো ব্যবসায়ীদের। অবশেষে বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনা করে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৩২৯ কোটি টাকা বরাদ্দে প্রথমে ২৫ একর ও পরবর্তীতে ১৬ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়।

পরবর্তীতে শূন্যরেখায় নির্মিত ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের পাশেই ২৫ একর জায়গায় বাংলাদেশ অংশে নির্মাণ কাজ শেষে শুরু হয় ১৬ একরে। এতে ইন্ডিয়ান সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বাধা দিয়ে বন্ধ করে দেয় নির্মাণ কাজ। বাধ্য হয়ে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ২৫ একরেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে গত বছরে। পরবর্তীতে আলোচনা সাপেক্ষে ১৬ একরের কাজ শেষে এখন বাণিজ্য সেবা চলছে ৪১ একরের কার্গোভেহিকেল  টার্মিনালটিতে।

পণ্য পরিবহরকারী ইন্ডিয়া থেকে আসা ট্রাকচালক অসিম কুমার জানান, বাণিজ্যিক সুবিধা ও নিরাপত্তা বেড়েছে বন্দরে। এখন আর রাস্তার ওপর পার্কিং করতে হয় না।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস এ্যাসোসিয়েশনের দফতর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, অবকাঠামো উন্নয়নে বেনাপোল আন্তর্জাতিক বন্দরে রূপ নিয়েছে। সামনের দিনগুলোতে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও রাজস্ব আয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন জানান, কার্গো ভেহিকেল টার্মিনালটি ৪১ একর জমিতে এখন পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য সেবা দিচ্ছে। বাণিজ্যিক নিরাপত্তায় রয়েছে বন্দরের নিরাপত্তাকর্মী আনসার, বন্দরের বেসরকারি সিকিউরিটি সংস্থা পিমা ও আর্মস ব্যাটালিয়ন পুলিশ সদস্যরা।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading