সন্দ্বীপে নিয়মিত যাত্রী পারাপারে কোস্টাল ফেরি প্রয়োজন: নৌপরিবহন উপদেষ্টা
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২৪ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ২১:০০
চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ সমুদ্র পথে নিয়মিত যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে কোস্টাল ফেরি প্রয়োজন জানিয়ে তা আনতে উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (২৪ মার্চ) সকাল ১০টায় সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে ফেরি থেকে নেমে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ কালে তিনি এসব কথা জানান।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেরার বাঁশবাড়িয়া ঘাটে এই ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেন ড. সাখাওয়াত হোসেন।
চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ রুটে এই ফেরি দেশে প্রথমবারের মত সমুদ্রপথে ফেরি যাত্রা।
ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সন্দ্বীপ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। এর সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে। এতদিন এটি যোগাযোগে বঞ্চিত ছিল, যা অন্যায়।
আজ ফেরি চলাচল শুরু হল। তবে এটা চালু রাখা নিয়ে কিছু সমস্যা আছে। এখানে যে চ্যানেল তা নিয়মিত ড্রেজিং করতে হয়। বছর বছর ড্রেজিং প্রয়োজন।’
বর্ষায় এই রুটে সি ট্রাক চলাচল করানো হবে জানিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান বলেছেন তারা সি ট্রাক দিবেন। কিন্তু সি ট্রাকে এত মালামাল বা গাড়ি নেয়া সম্ভব হবে না। তাই এখানে কোস্টাল ফেরি প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে কোস্টাল ফেরির প্রভিশন নেই। এটা আমাদের আনতে হবে। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, নৌপরিবহন উপদেষ্টা ও বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান এই কঠিন কাজকে সফল করেছেন। তারা এই চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। কঠিন কাজ বলেই এতদিন হয়নি। তবে এটা এখনো চলমান কাজ। সারা বছর যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে হলে কোস্টাল ফেরি লাগবে।
সোমবার সকাল ৯টায় সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া থেকে ফেরিটি ছেড়ে এক ঘণ্টায় সন্দ্বীপের গুপ্তছড়ায় পৌঁছায়। ফেরি যখন গুপ্তছড়ায় পৌঁছায় তখন ফেরিঘাটে হাজার হাজার দ্বীপবাসী উৎসাহ নিয়ে ফেরিটিকে স্বাগত জানায়।
এরআগে ফেরিতে সন্দ্বীপের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক মত বিনিময় সভায় দ্বীপের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
এসব দাবির মধ্য রয়েছে, দ্বীপের চর্তুদিকে ব্লক বেড়িবাঁধ ও ডাবল লাইন রিং রোড করা, ফেরিঘাটের উভয় প্রান্তে সড়ক প্রশস্ত করা, হারামিয়া ২০ শয্যার হাসপাতালকে ৩১ শয্যায় উন্নীত করা, সন্দ্বীপে দক্ষিণাঞ্চলে চিকিৎসা কেন্দ্রটি ১০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা এবং উড়িরচরের ইউনিয়ন চিকিৎসা কেন্দ্রটি ১০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা।
সাগর বক্ষের দ্বীপ সন্দ্বীপের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ফেরি সার্ভিস চালু করা। এরআগে একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও তা সফল হয়নি।
উত্তাল এই সাগর পথে স্পিডবোট ও ট্রলারসহ বিভিন্ন নৌযানে চলাচল করতে হয় দ্বীপের মানুষের। এতে বিরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশে বিভিন্ন সময় ঘটা দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া বৈরি আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন রোগীরা। সাগর পাড়ি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য অসুস্থ লোকজনদের মূল ভূখণ্ডে আনা সম্ভব হয় না।
তাছাড়া জোয়ার-ভাটার কারণে বেশিরভাগ সময় নৌযান থেকে নেমে কাদা মাড়িয়ে ঘাটে পৌঁছাতে হয় সন্দ্বীপবাসীদের। ফেরি চালু উপলক্ষে সোমবার থেকে ঢাকা-সন্দ্বীপ রুটে বিআরটিসির বাস চলাচলও উদ্বোধন করেন উপদেষ্টারা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
এছাড়া সোমবার থেকে চট্টগ্রামের এয়ারপোর্ট- সী বিচ- নিমতলা- নয়াবাজার-কুমিরা-বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট- সন্দ্বীপ এনাম নাহার মোড় রুটেও এসি বাস সার্ভিস চালু করেছে বিআরটিসি।
ইউডি/এআর

