ব্যাংককে ইউনূস-মোদি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হচ্ছে না: ইন্ডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার (২৮ মার্চ), ২০২৫, আপডেট ২০:৫০
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে না বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি কেবল থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
আজ শুক্রবার (২৮ মার্চ) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ৩ এপ্রিল থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনার জন্য বৈঠক করবেন। এটিই হবে মোদির একমাত্র দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।
সম্মেলনের ফাঁকে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে মোদির বৈঠকের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইন্ডিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল।
নরেন্দ্র মোদি বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ৩ এপ্রিল থাইল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন। পরদিন তিনি ব্যাংকক থেকে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় যাবেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়কের আমন্ত্রণে মোদি ৪ থেকে ৬ এপ্রিল সে দেশে সফর করবেন।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠক না হলেও ব্যাংককে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে মোদির সৌজন্য সাক্ষাৎ হবে কি না, সে বিষয়ে সরকারি বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি। তবে সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, একই অনুষ্ঠানে থাকার কারণে দুই নেতার মধ্যে সৌজন্য বিনিময় হতে পারে। একান্তে কিছু আলাপচারিতাও হলেও, সেটি হবে অনানুষ্ঠানিক।
গত বছরের আগস্টে গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদল হলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক ইউনূস। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক সম্মেলনে দুই নেতার দেখা হয়নি, কারণ মোদি দেশে ফেরার পর ইউনূস নিউইয়র্কে পৌঁছান।
অধ্যাপক ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় আট মাস পেরিয়ে গেলেও দুই নেতা মুখোমুখি হননি। তবে ক্ষমতা গ্রহণের পর মোদি ইউনূসকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন এবং গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে চিঠি লিখে শুভেচ্ছা জানান।
এদিকে, ইন্ডিয়ার সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ইন্ডিয়ার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। অধ্যাপক ইউনূস প্রথম সফরে ইন্ডিয়া যেতে চেয়েছিলেন। তবে ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তার প্রেস সচিব শফিবুল আলম ইন্ডিয়ার সংবাদপত্র দ্য হিন্দুকে জানান। ড. ইউনূস বর্তমানে চীনে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠক আয়োজন করতে বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ করেছে বলে ইন্ডিয়ার বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি এএনআইকে বলেন, ‘বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে আমাদের দুই নেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে আমরা ইন্ডিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ করেছি।’
২০২২ সালে বিমসটেকের পঞ্চম সম্মেলন ভার্চুয়ালি শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার ব্যাংককে ষষ্ঠ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে বিমসটেকের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবে বাংলাদেশ।
শীর্ষ সম্মেলনে পারস্পরিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা প্রসারে আলোচনার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও আলোকপাত করা হবে। বিমসটেকের সদস্যদেশগুলো হলো—বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড।
ইউডি/এআর

