ভূমিকম্পের পর তীব্র মানবিক সংকটে মিয়ানমার
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার (৩১ মার্চ), ২০২৫, আপডেট ০১:০০
গত শুক্রবার ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১,৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর মিয়ানমার তীব্র মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে। দেশের ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজন প্রতি ঘণ্টায় বাড়ছে বলে রবিবার (৩০ মার্চ) রেড ক্রস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অবশ্য ত্রাণ ও সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসছে প্রতিবেশী দেশগুলো। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
শুক্রবারের এই ভূমিকম্পটি মিয়ানমারে শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী কম্পন ছিল। এর ফলে সেতু, মহাসড়ক, বিমানবন্দর এবং রেলপথসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যেই ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। ফলে উদ্ধার প্রচেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশনের (আইএফআরসি) এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক আলেকজান্ডার ম্যাথিউ বলেছেন, এটি কেবল একটি দুর্যোগ নয়; এটি একটি জটিল মানবিক সংকট, যা পূর্ববর্তী দুর্বলতাগুলোর ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। এই দুর্যোগের মাত্রা ব্যাপক, এবং সহায়তার প্রয়োজন অত্যন্ত জরুরি।
অবশ্য রবিবার বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলো মিয়ানমারে পৌঁছেছে, যাতে দেশটি এই দুর্যোগ মোকাবিলা করতে পারে। মিয়ানমার রেড ক্রস জানিয়েছে, স্বেচ্ছাসেবকরা প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করছে এবং কম্বল, ত্রিপল ও স্বাস্থ্যসামগ্রীর মতো জরুরি সহায়তা বিতরণ করছে।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ধ্বংসযজ্ঞ ব্যাপক, এবং মানবিক সহায়তার চাহিদা প্রতি ঘণ্টায় বাড়ছে।
আইএফআরসি প্রায় ১১৩.৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরুরি তহবিল সংগ্রহের আবেদন জানিয়েছে, যাতে ১ লাখ মানুষের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা ও প্রাথমিক পুনরুদ্ধার সহায়তা প্রদান করা যায়।
শনিবার, জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত করছে এবং মিয়ানমারের মধ্য ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হাসপাতালগুলো আহত রোগীদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
ইউডি/এবি

