গাজা বিশ্ববিদ্যালয় এখন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়স্থল

গাজা বিশ্ববিদ্যালয় এখন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়স্থল

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৫, আপডেট ১৭:৫০

ফিলিস্তিনের গাজা শহরের গাজা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থী ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চিকিৎসা, রসায়ন থেকে শুরু করে সাহিত্য ও ব্যবসাসহ নানা বিষয়ে পড়ানো হত। বিশ্ববিদ্যালয়টির ৬০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থীই ছিল নারী। কিন্তু এক সময় শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকা বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

গত ১৮ মাস ধরে ইসরাইলি বাহিনীর বোমা হামলায় ৫০ হাজারের ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইসরাইলি তাণ্ডব থেকে রক্ষা পায়নি গাজা শহরের গাজা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলোও। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল মিলনায়ত থেকে শুরু করে অনেক ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অনেক ভবনের দেয়ালে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলগুলোও বোমার আঘাতে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।

যুদ্ধবিরতি ভেঙে গত ১৮ মার্চ ইসরাইল গাজায় ফের হামরা শুরুর পর থেকে ক্যাম্পাসটি উত্তর গাজার শত শত পরিবারের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।

বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো লেকচার হল এবং শ্রেণীকক্ষে তাঁবু টাঙিয়ে থাকার ব্যবস্থা করেছে। জ্বালানি না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে রান্নার কাজে ব্যবহার করছে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের তোরণের পাশে অস্থায়ী কয়েকটি দোকান বসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়কে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করলেও গাজার অন্য ফিলিস্তিনিদের মত এখানেও খাদ্যের তীব্র সংখট দেখা দিয়েছে। কারণ এক মাসের বেশি সময় ধরে ইসরাইল গাজায় খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ এবং অন্যান্য সমস্ত পণ্যের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে ইসরাইলি হামলায় প্রায় ১৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৩ হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৫০ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

সূত্র: আল জাজিরা

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading