তিন দিনেও উদ্ধার হননি পাহাড়ে অপহৃত ৬ জন
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৫, আপডেট ১৬:৩৫
খাগড়াছড়িতে অপহৃত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৫ শিক্ষার্থীসহ ছয় জন তিনদিনেও উদ্ধার হননি।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) সকাল থেকে তৃতীয় দিনের মতো বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার কিংবা অপহৃতরা উদ্ধার না হওয়ায় দুঃশ্চিন্তায় পরিবার।
গত বুধবার (১৬ এপ্রিল) ভোরে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের গিরিফুল এলাকা থেকে সন্তু লারমা সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সদস্য চবি শাখার নেতা রিশান চাকমাসহ পাঁচ শিক্ষার্থী এবং টমটম চালককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয়। রিশান চাকমা চবির আন্তজার্তিক সর্ম্পক বিভাগের শিক্ষার্থী।
অপহরণের শিকার অন্য শিক্ষার্থীরা হলেন চবির চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী মৈত্রীময় চাকমা, নাট্যকলা বিভাগের দিব্যি চাকমা, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের লংঙি ম্রো এবং চারুকলা বিভিগের অলড্রিন ত্রিপুরা। তারা প্রত্যেককে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-৩৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সন্তু লারমার সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি’র) সভাপতি নিপুন ত্রিপুরা জানান, রিশান চাকমা আমাদের ছাত্র সংগঠনের চবি শাখার সদস্য। তারা গত মঙ্গলবার রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে সৈবাবি উৎসব শেষ করে খাগড়াছড়ি হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বাসে টিকেট না পাওয়ায় মঙ্গলবার রাতে তারা খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কুকিছড়া এলাকায় মৈত্রীময় চাকমার এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাতযাপন করেছিল। সকাল ৭ টার গাড়িতে তাদের চট্টগ্রামে ফেরার কথা। কিন্তু গিরিফুল এলাকা থেকে তাদেরকে জোরপূর্বক তুলে নেয়া হয়। এসময় শিক্ষার্থীদের বহনকারী টমটম চালককেও অপহরণ করা হয়। এই ঘটনার জন্য আমরা ইউপিডিএফ (প্রসীত) কে দায়ী করছি। তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউপিডিএফের প্রসীত গ্রুপের জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা। তিনি বলছেন, ‘অপহরণের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ ধরনের প্রতহিংসা পরায়ন রাজনীতি করি না। আমরা সবসময় ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের পক্ষে। কোনো মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অপহরণের ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের ওপর দায় চাপাচ্ছে।’
ইউডি/এআর

