৯ কোটি টাকা ব্যয়েও মিলছে না মশা থেকে মুক্তি!
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৫, আপডেট ১৭:২৫
মশার যন্ত্রণা এখন গাজীপুরবাসীর নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা। দিন হোক বা রাত, ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। প্রায় ৭০ লাখ জনসংখ্যার এই মহানগরীতে মশার উপদ্রব এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। গত দুই বছরে মশা নিধনের ওষুধ কিনতে ৯ কোটি টাকা ব্যয় হলেও তা থেকে মিলেনি মুক্তি।
স্থানীয়রা জানান, মাঝে মাঝে শহরের কোনো এক প্রান্তে ফটোশুটের মতো করে ওষুধ ছিটাতে দেখা গেলেও বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। গাজীপুরের অনেক এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মশার ওষুধ থেকে বঞ্চিত। জনপ্রতিনিধি না থাকায় অভিযোগ জানানোরও কোনো উপায় নেই বলে ক্ষোভ জানান বাসিন্দারা।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে মশা নিধনের ওষুধ কিনতেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মশার দৌরাত্ম্যে দিনের বেলাতেও অনেককে ঘরের ভিতরে থাকতে হচ্ছে।
এদিকে, মশা নিধনের নামে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বায়োজিদুর রহমান খান বলেন, ‘মশার ওষুধ কেনা নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি। অভিযানে গিয়ে দেখি, সিটি করপোরেশন কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তারা বলছে কাগজপত্র আগুনে পুড়ে গেছে, অথচ আগুন লাগার কোনো প্রমাণ মেলেনি। এটা দুর্নীতিরই প্রমাণ।’
তবে এই দুর্নীতির দায় স্বীকার না করলেও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই। তবে দুদক তদন্ত চালালে আমরা সহায়তা করবো।’
নগরবাসীর অভিযোগ, দায়িত্বহীন কিছু কর্মকর্তার দুর্নীতির কারণেই এই জনস্বাস্থ্য সেবা ভেঙে পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শিগগির ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
ইউডি/এআর

