কাশ্মীর সীমান্তে ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের ফের গোলাগুলি
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৫, আপডেট ১১:১৫
কাশ্মীর সীমান্তের নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের সেনাদের মধ্যে টানা চতুর্থ দিনের মতো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার (২৭ এপ্রিল) রাতে ফের গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে। তবে এতে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। খবর-এনডিটিভির।
অবশ্য ইন্ডিয়ার গণমাধ্যমে গোলাগুলির বিষয়ে বরাবরের মতো পাকিস্তানকে দোষারোপ করা হলেও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বা দেশটির সংবাদমাধ্যমে এখনও এ বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
এনডিটিভি বলছে, জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর টানা চতুর্থ রাতে বিনা উসকানিতে পাকিস্তানি সেনারা গুলি চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইন্ডিয়ার সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা।
ভারতীয় সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ২৭-২৮ এপ্রিল রাতের মধ্যে কুপওয়ারা ও পুঞ্চ জেলার বিপরীত পাশে পাকিস্তানের সেনাঘাঁটি থেকে বিনা উসকানিতে ছোট অস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। ইন্ডিয়ার সেনারা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে তার ‘জবাব’ দিয়েছে।
এই প্রথমবারের মতো পুঞ্চ সেক্টরেও পাকিস্তানের সেনারা গুলি চালাল বলে দাবি করেছে ইন্ডিয়ার সেনাবাহিনী।
এই গোলাগুলির ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন কয়েকদিন আগেই জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর কাশ্মিরে এটিই সবচেয়ে বড় হামলা।
এদিনের গোলাগুলির বিষয়ে চীনের সংবাদসংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, কোনও ধরনের প্ররোচনা ছাড়াই নিয়ন্ত্রণরেখায় গুলি চালাতে শুরু করে ভারতীয় সেনারা, পরে পাকিস্তানও পাল্টা গুলি চালিয়ে জবাব দিয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গোলাগুলি হয়। সম্প্রতি অধিকৃত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলার জেরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
এদিকে পেহেলগামের ভয়াবহ ওই হামলার জেরে ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করেছে ইন্ডিয়া।
জবাবে সিমলা চুক্তি স্থগিত ও ইন্ডিয়ার বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান।
তাছাড়া, হামলার পরে দুই দেশই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের ভিসা বাতিল করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এতে ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের নাগরিকেরা নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে শুরু করেন।
ইউডি/কেএস

