সোহরাওয়ার্দীতে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ শুরু

সোহরাওয়ার্দীতে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ শুরু

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ০৩ মে, ২০২৫, আপডেট ০৯:৪৫

নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিলসহ চার দফা দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসমাবেশ শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশ চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

সকাল থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা বাসে ও পায়ে হেঁটে সমাবেশে আসছেন। সকাল থেকেই কোনো মিছিল আসতে শুরু করে শাহবাগের দিক থেকে, কোনোটি দোয়েল চত্বরের দিক থেকে, আবার কোনোটি আসে নীলক্ষেতের দিক থেকে। সমাবেশে অংশ নিতে আসা নেতাকর্মীদের ভিড়ে ভোর থেকে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল সীমিত হয়ে আসে।

সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সদস্য মাহমুদ বিন হোসাইন বলেন, হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা পবিত্র কোরআনবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ড রুখতে সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করতে প্রস্তুত। আজকের সমাবেশ তারই প্রমাণ। অবিলম্বে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাতিল করতে হবে।

আশুলিয়ার একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সাইদুল হাসান জানান, সমাবেশ উপলক্ষ্যে তার মাদ্রাসায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ওই মাদ্রাসার কাফিয়া শ্রেণি থেকে দাওরায়ে হাদিস শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় সব শিক্ষার্থী সমাবেশে এসেছেন বলে জানান তিনি।

বেলা পৌনে ১১টায় শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালিদ মুনসুর জানান, সমাবেশকে ঘিরে সমাবেশস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ ফোর্স মাঠে আছে। এখনও পর্যন্ত কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।

সরেজমিনে জানা যায়, মৎস্য ভবনে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। প্রস্তুত আছে জল কামানের গাড়ি। দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট ও শাহবাগ মোড়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে সমাবেশের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। এতে সভাপতিত্বে করছেন হেফাজতের আমির মাওলানা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ্ বাবুনগরী। সমাবেশে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, আজকের মহাসমাবেশের মুখ্য দাবি মূলত চারটি। এর মধ্যে প্রধান দাবি হচ্ছে, অনতিবিলম্বে হেফাজত নেতাদের নামে থাকা সব মামলা প্রত্যাহার। সংগঠনটির হিসাবমতে, সারা দেশে হেফাজত নেতাদের নামে প্রায় ৩০০টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড, ২০২১ সালের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফর ঘিরে হত্যাকাণ্ড, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার। এরপর যথাক্রমে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিল, সংবিধানের প্রস্তাবনায় আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্বহাল করা, ফিলিস্তিন ও ভারতে মুসলিম গণহত্যা ও নিপীড়ন বন্ধের দাবিগুলো থাকবে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading