নিম্ন আয়ের মানুষের খাবারে কাটছাঁট: জরিপ

নিম্ন আয়ের মানুষের খাবারে কাটছাঁট: জরিপ

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০৪ মে, ২০২৫, আপডেট ০৯:২০

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় খাবারের তালিকায় কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ। তরুণ গবেষণা সংগঠন ইয়ুথ পলিসি নেটওয়ার্ক পরিচালিত সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে এমন চিত্র।

গত মার্চে পরিচালিত জরিপে দেশের বিভিন্ন জেলা শহর ও উপজেলার ১ হাজার ২২ জন নিম্ন আয়ের মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন রিকশাচালক, দিনমজুর, নিরাপত্তাকর্মী, শিক্ষার্থী ও ডেলিভারিম্যান।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ৯৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, কখনো না কখনো অর্থাভাবে খাবার বাদ দিতে হয়েছে। প্রতি ১০ জনের ৬ জন নিয়মিত নাস্তা বাদ দেন। কেউ কেউ দিনে একাধিকবার খাবার কমিয়ে দেন।

খাবারের তালিকায় বেশি দেখা যায় সস্তা খাবার—বিস্কুট, কলা, ডিম ও পরোটা। পুষ্টিমূল্য কম হলেও কম খরচের কারণে এসব খাবারের চাহিদা বেশি। জরিপ বলছে, বেশির ভাগ অংশগ্রহণকারীর মাসিক আয় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে। একটি বড় অংশের আয় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে।

জীবনের এই বাস্তবতায় নিত্যপণ্যের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উত্তরদাতারা। জরিপ অনুযায়ী, ৬৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, নিত্যপণ্যের ওপর ভ্যাট তাদের ওপর বাড়তি বোঝা তৈরি করছে।

খাদ্যের খরচ কমাতে গিয়ে যারা বিস্কুটের মতো সহজলভ্য খাবারের ওপর নির্ভর করছেন, তাদের জন্যও পরিস্থিতি সহজ নয়। কারণ, চলতি অর্থবছরের মাঝপথে সরকার বেকারিপণ্য, বিস্কুট ও কেকের ওপর ভ্যাট বাড়িয়ে ৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ করেছিল। পরে সমালোচনার মুখে তা কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ করা হলেও মূলত এসব খাবারের ওপর করের বোঝা থেকেই গেছে।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের চাওয়া স্পষ্ট—কম আয়ের মানুষের জন্য কর ছাড়, নিত্যপণ্যের ওপর ভর্তুকি ও সরাসরি সহায়তা বৃদ্ধি ও উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি কর আরোপ।

জরিপ অংশগ্রহণকারীদের ৮৮ শতাংশ মনে করেন, গত বাজেটে তাদের বাস্তব জীবনের প্রতিফলন ঘটেনি। তবে এবারের বাজেট নিয়ে ৭০ শতাংশ মানুষ কিছুটা আশাবাদী।

গবেষকরা সুপারিশ করেছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট কমিয়ে ০ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে নামানো উচিত। তাদের মতে, এতে অন্তত মৌলিক খাবারের নাগাল কিছুটা সহজ হবে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading