অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে অর্থনীতি সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়: গভর্নর
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার (২১ মে) ২০২৫, আপডেট ২৩:৩৫
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে দেশের অর্থনীতি সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারের কাছে আংশিকভাবে পুনর্গঠিত একটি অর্থনীতি দিয়ে যাবো। তবে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসে এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
বুধবার (২১ মে) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে আর্থিক খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই), বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টার (আইজিসি)।
গভর্নর আরও বলেন, ‘যত দিন আমরা রাজনৈতিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে না পারবো, তত দিন অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণও সম্ভব হবে না। যদিও এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল।’
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. হাবিবুর রহমান।
মূল প্রবন্ধে তুলে ধরা হয়, ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট আমানতের প্রায় ৪২ শতাংশ রয়েছে মাত্র ০.১ শতাংশ হিসাবধারীর কাছে। এই গ্রুপের প্রত্যেকের হিসাবে জমা রয়েছে ১ কোটি টাকা বা তার বেশি। এটি দেশের সম্পদের মারাত্মক পুঞ্জীভবনের চিত্র তুলে ধরে বলে মন্তব্য করেন ড. আশিকুর রহমান।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, ‘এক সময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা কমে ২০ বিলিয়নে নেমে আসে। এর ফলে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা সিস্টেম থেকে বের হয়ে গেছে, যার বড় অংশই দেশের বাইরে চলে গেছে। এই কারণে ব্যাংকে আমানতের প্রবৃদ্ধিও কমেছে।’
বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৭ বিলিয়ন ডলার উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য এখন রিজার্ভ পুনর্গঠন। প্রবাসী আয়, রফতানি এবং বৈদেশিক অর্থায়নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে অর্থনীতিকে চাঙা করতে হবে। আশা করছি শিগগিরই রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে।’
গভর্নর দেশের আর্থিক খাতের ডিজিটাল রূপান্তর নিয়েও আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্যাশলেস তথা অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছি। বর্তমানে ২০ হাজার এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চলছে—যা শিগগিরই ২৬ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। এতে ক্ষুদ্রঋণ খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’
ইউডি/এবি

