নির্বাচন বিলম্বিত করার জন্য কিছু দৃশ্যপট তৈরি করা হচ্ছে: বিএনপি

নির্বাচন বিলম্বিত করার জন্য কিছু দৃশ্যপট তৈরি করা হচ্ছে: বিএনপি

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার (২৭ মে) ২০২৫, আপডেট ২৩:৪০

জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিলম্বিত করার জন্য কিছু দৃশ্যপট তৈরি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘একটা অসিলা হলো, (আওয়ামী লীগের) বিচার শেষ করতে হবে। বিচার তো আমরাও চাই। এই আওয়ামী লীগ স্বৈরাচার সরকারের সময়ে আমাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য এমন কিছু নেই, যা তারা করেনি। এর পরও কেন প্রশ্ন আসে, আমরা তাদের বিচার চাইব না?’

মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেলে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি।

স্বাধীন বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিচার হতে হবে বলে উল্লেখ করেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্বাধীন বিচার চাইব, আবার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিচার শেষ করার কথা বলব—দুটি তো সাংঘর্ষিক। সে জন্য আমরা বলছি, সংস্কার, নির্বাচন এবং বিচারের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আলাদা। তিনটি কাজই একসঙ্গে চলতে পারে এবং চলা উচিত।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলের নেতাদের বৈঠকের পরও সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় নির্বাচনের সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসায় হতাশা প্রকাশ করেন বিএনপির নেতারা। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে একটি জাতীয় সংসদ গঠনের জন্য অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ (পথনকশা) ঘোষণার দাবি জানান তাঁরা।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘সরকারের কাছে নির্বাচন বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আশা করেছিলাম। সেটি হয়নি।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, নির্বাচনের জন্য ডিসেম্বর মাস উপযুক্ত সময়, এখনো সেই কথার ওপরই আছি।’এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ডিসেম্বরের পরে ফেব্রুয়ারিতে রোজা চলে আসবে। এরপর আসবে বর্ষা। এসএসসি ও এইচএসসির মতো বড় পাবলিক পরীক্ষাগুলো আছে। সে জন্য সেটি নির্বাচনের উপযুক্ত সময় নয়।

বাধ্যবাধকতা থাকায় একটি নির্বাচন জুনে হলেও বাকি সব নির্বাচন ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় দ্রুত নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ না এলে বিএনপির পক্ষে এই সরকারের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলে সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে দলটি বলে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকের পর উপদেষ্টা পরিষদের এক বিবৃতিতে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর। মূলত সরকার পরিচালনায় নিরপেক্ষতার ঘাটতি ও দুর্বলতা থাকায় জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading