নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী পটুয়াখালীতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী পটুয়াখালীতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার (২ জুন) ২০২৫, আপডেট ২১:৪৫

নারায়ণগঞ্জ থেকে অপহৃত মিম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সোহাগ মিয়াকে (৪২) হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় পটুয়াখালীর পায়রাকুঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় তার নিজস্ব গাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে গাড়ির ভেতরে হাত পা চোখ ও মুখ বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সন্ধ্যায় হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে, তবে চালকেরা পলাতক।

উদ্ধার হওয়া মো. সোহাগ মিয়া নারায়ণগঞ্জ শহরের নিউ চাষাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত ব্যবসায়ী এবং ‘মিম শরৎ গ্রুপ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ জানায়, রবিবার রাত ৯টার দিকে সোহাগ মিয়া নিতাইগঞ্জের অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে তুলারাম কলেজ গেটের সামনে তার গাড়ি থামিয়ে ৫-৬ জনের একটি দল জোরপূর্বক গাড়িতে ওঠে। এরপর তাকে হাত, পা ও চোখ বেঁধে মারধর করে গাড়িসহ পটুয়াখালীতে নিয়ে আসে।

পরিবার থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশকে অপহরণের বিষয়টি জানানো হলে, রাতেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। পুলিশ মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করতে থাকে। ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশের তৎপরতায় বিপাকে পড়ে অপহরণকারীরা সোমবার সকালে পায়রাকুঞ্জ ফেরিঘাট এলাকার একটি নির্মাণাধীন সেতুর পাশে গাড়িসহ তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

সেখানে বালুর মাঠে পরিত্যক্ত অবস্থায় গাড়ি দুটি দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে সোহাগ মিয়াকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। তিনি ইশারায় সাহায্য চাইলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে ডিবি, সদর থানা ও নৌ পুলিশের একটি দল গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করে এবং পটুয়াখালী পুলিশের সহযোগিতায় অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো থানায় লিখিত অভিযোগ, জিডি বা মামলা দায়ের করা হয়নি। অপহরণে ব্যবহৃত গাড়ির চালকদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণে চালকদের যোগসাজশ থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading