চার কিলোমিটারের ভোগান্তি ঘোচেনি ১৫ বছরে
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫, আপডেট ১১:০০
কৃষিপণ্য উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহ এবং জেলা সদর পর্যায়ে সরকারি দপ্তরগুলোতে কর্মরত বড় একটি অংশের বসবাস বিয়ানীবাজারের মুরাদগঞ্জ ও বারইগ্রাম এলাকায়। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন কাজে তাই এই এলাকার গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।
২০২২ ও ২৪ সালের ভয়াবহ বন্যাসহ পরপর ৪টি বন্যার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মুরাদগঞ্জ-বারইগ্রাম সড়ক। টানা বন্যার কারণে যথেষ্ট সুযোগ মেলেনি সংস্কার করে সড়কের ক্ষতির পরিমাণ কমানোর। এই সড়কের অধিকাংশ স্থান কাদা আর ময়লা পানিতে ভরা। বেহাল এই চার কিলোমিটার সড়কের কারণে চলাচলে ভোগান্তির পাশাপাশি পৌরসভার দুই ওয়ার্ড এবং মোল্লাপুর ও লাউতা ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষকে আর্থসামাজিক সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে।
মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকালে জানা যায়, কংকালসার আন্তঃইউনিয়নের এ সড়কের কারণে ১৩ বছর ধরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দক্ষিণ জনপদের মানুষ। চার কিলোমিটার এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুপালতা, নিদনপুর ও লামানিদনপুর, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া, নিদনপুর, মোল্লাপুর, উপর মোল্লাপুর, মোল্লাপুর ইউনিয়নের পাতন, আব্দুল্লাহপুর, আলীপুর, লাল বাউরভাগ, মাটিকাটা এবং লাউতা ইউনিয়নের বাউরভাগ, লাউতা, বাহাদুরপুর, নন্দীরফল, গজারাইসহ তিলপাড়া ইউনিয়নের গাংকুল, সানেশ্বর, উলুউরি ও পীরের চকের বাসিন্দা।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, পাহাড়ি টিলাসমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় বর্ষা মৌসুমসহ প্রায় সারাবছর এ সড়কের দুই ধারের পাহাড় থেকে ঢলের পানি নেমে আসে, যা এই সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বৃষ্টির মৌসুমে স্রোত নামে। সড়কের দুই পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় সড়ক সংস্কার করা হলেও প্রতিবার ঢলের পানিতে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পৌরসভার ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিদনপুর ও মোল্লাপুর, মোল্লাপুর ইউনিয়নের পাতন ও গোডাউন বাজার থেকে লাউতা ইউনিয়নের লাউতা এলাকা পর্যন্ত সড়কের অবস্থা বেশি খারাপ। বর্ষায় সড়কের ওপর পানির চাপ দীর্ঘ সময় অব্যাহত থাকায় এর নিচের মাটি ক্ষয়ে সড়কের উচ্চতা কমে নিচু হয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে জলাবদ্ধতা সংকট। এদিকে সড়কজুড়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে জলাবদ্ধতা বাড়ছে।
এর মাঝে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পাতন এলাকার প্রায় ৩০০ মিটার সড়কের অংশ। এই অংশে সুরকি উঠে গেছে।
জানুয়ারিতে পাতন এলাকার বাসিন্দারা প্রবাসীদের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কিছু অংশে ড্রেন নির্মাণ করেছেন। মোল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, এ সড়ক সংস্কার কেন হচ্ছে না– এ নিয়ে ইউনিয়নবাসীর চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রায় ১৫ বছর ধরে উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের দুই ইউনিয়নের বাসিন্দারা ভুক্তভোগী। দ্রুত এই সড়কের সংস্কার করা না হলে সেটি চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে যাবে।
লাউতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, এমপি কিংবা উপজেলা চেয়ারম্যান কেউই সড়ক সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির কাজী জমির উদ্দিন বলেন, এ সড়কে গত ১৪-১৫ বছর ধরে একই সমস্যা। এই এলাকার মানুষ সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন না হওয়ায় হতাশ।
উপজেলা প্রকৌশলী অফিস জানায়, ২০১২ সালে এ সড়ক দুদফায় সংস্কার করা হয়েছে। ২০২৩ সালে সড়কের মুরাদগঞ্জ অংশের ২০০ মিটার অংশ এডিপির অর্থায়নে সংস্কার করা হয়। বৃষ্টির পানির কারণে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সড়ক ভেঙে গেছে। নতুন করে ৪ কিলোমিটার সড়কের ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার একটি স্কিম মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী দীপক কুমার দাস বলেন, মুরাদগঞ্জ-বারইগ্রাম সড়কের জন্য একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সড়কটি সংস্কারে প্রাক্কলন ধরা হয়েছে এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
ইউডি/কেএস

