রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পথ খোঁজার প্রতিশ্রুতি ১১ পশ্চিমা দেশের

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পথ খোঁজার প্রতিশ্রুতি ১১ পশ্চিমা দেশের

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার (২৫ আগস্ট) ২০২৫, আপডেট ২৩:৫৫

বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গারা যে নিজেদের মাতৃভূমি মিয়ানমারের রাখাইনে ফিরতে চায়, সে কথা তুলে ধরে তাদের প্রত্যাবাসনের পথ খুঁজে বের করার অঙ্গীকার জানিয়েছে পশ্চিমা বিশ্বের ১১ দেশ।

রোহিঙ্গা সংকটের আট বছর পূর্তিতে সোমবার (২৫ আগস্ট) ঢাকায় দেশগুলোর মিশন এক যৌথ বিবৃতিতে এ সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ফ্রান্স দূতাবাস তাদের এক্স হ্যান্ডেল ও ফেইসবুক পেইজে ওই যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। ফ্রান্স ছাড়াও বিবৃতিদাতা দেশগুলোর মধ্যে আছে অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও ফিনল্যান্ড।

দেশগুলো বলছে, মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে চলমান মানবিক সংকটের সমাধানে আগামী মাসে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠেয় উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আট বছর পূর্তিতে (রোহিঙ্গা সংকটের) আমরা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সেই কর্মকাণ্ডকে স্মরণ করি, যার ফলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ব্যাপকভাবে বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন, এবং বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে নতুন নতুন আগমন অব্যাহত রয়েছে।

“রোহিঙ্গারা তাদের চলমান দুঃখ-কষ্ট ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যেও যে দৃঢ়তা ও সহনশীলতা দেখিয়েছে, আমরা তা স্বীকার করি, বিশেষ করে যখন রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে।”

দেশগুলো বলছে, “আমরা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই, যারা রোহিঙ্গাদের–নতুন যারা আসছে তাদেরসহ–আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিচ্ছে এবং জীবন রক্ষায় মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।”

বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা নিজেদের মাতৃভূমিতে ফিরতে চায়, সে কথা তুলে ধরে এগারো দেশ বলছে, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের প্রত্যাবাসনের পথ খুঁজে বের করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সীমান্ত পেরিয়ে বাস্তুচ্যুতি এখনও অব্যাহত রয়েছে।

“অনেক রোহিঙ্গা রাখাইনেই অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত। তাছাড়া মিয়ানমারে এখনও এমন পরিবেশ তৈরি হয়নি যাতে করে সেখানে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে ও টেকসইভাবে প্রত্যাবাসন সম্ভব।”

দেশগুলো বলছে, এই শর্তগুলো (প্রত্যাবাসনের) কেবল তখনই পূরণ হতে পারে, যখন বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো সমাধান করা যাবে। আর সেজন্য প্রয়োজন একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল মিয়ানমার।

“তাই আমরা স্বীকার করি, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য এখনই কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির সহায়ক প্রচেষ্টাকে জরুরি ভিত্তিতে সমর্থন করা প্রয়োজন বলে আমরা সকল পক্ষকে জোর দিয়ে অনুরোধ করছি।”

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সেই ঢলের শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট; এরপর কয়েক মাসের মধ্যে সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেয়। আগে থেকে ওই এলাকার ক্যাম্পে বসবাস করছিল আরও চার লাখ রোহিঙ্গা।

জাতিসংঘ সে সময় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর এই হত্যা ও নির্যাতনকে চিহ্নিত করেছিল ‘জাতিগত নিধনের ধ্রুপদী উদাহরণ’ হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারও রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো ওই হত্যাযজ্ঞকে ‘জেনোসাইড’ হিসাবে বর্ণনা করেছে।

বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দেওয়ার পর থেকে কক্সবাজার ও উখিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বাঁশ আর প্লাস্টিকের খুপড়ি ঘরে বসবাস শুরু করে রোহিঙ্গারা। উখিয়ার কুতুপালং পরিণত হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading