কক্সবাজার সৈকত মুখরিত, বাড়ছে পর্যটকের ভিড়

কক্সবাজার সৈকত মুখরিত, বাড়ছে পর্যটকের ভিড়

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫, আপডেট ০৯:২০

সাপ্তাহিক ছুটির দিন, মনোরম আবহাওয়া– এই সুযোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক ভিড় করছেন কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। কখনও রোদ, কখনও মেঘলা আকাশ। উপচে পড়া ভিড় জমেছে সৈকতের বালিয়াড়িতে। সমুদ্রস্নান, ঘোড়ার পিঠে চড়া কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো– সব মিলিয়ে সাগরপাড়ে বইছে উৎসবের হাওয়া। গত কয়েকদিন ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত থাকলেও শুক্রবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর তা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় কক্সবাজার সৈকতে আবার পর্যটকের ভিড় দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টের সাগরতীর ছিল পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত। ছোট-বড়, তরুণ-প্রবীণ– সবাই মেতে উঠেছেন আনন্দে। কেউ ঝাঁপ দিচ্ছেন সাগরের নোনাজলে, কেউ শুধু হাঁটছেন জলরেখার ধারে। সৈকতের বালিয়াড়িতে চলছে শিশুদের খেলাধুলা, আর ঘোড়ার পিঠে চড়ে উপভোগ করার পালা।

ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী আরিফ হাসান বলেন, ‘প্রকৃতিকে স্পর্শ করতে হলে সমুদ্রসৈকতে বারবার ফিরে আসতে হবে। সাগরপানে তাকালেই এক আলাদা অনুভূতি। সেজন্যই বারবার ছুটে আসা কক্সবাজার সৈকতে।’ পর্যটক মোহাম্মদ সফি উল্যাহ বলেন, ‘সমুদ্র আর আকাশ– যেন বিশাল সৌন্দর্যের এক অনুপম ভাণ্ডার।’ আরেক পর্যটক রিয়াজ হায়দার বলেন, ‘অনেক দিন পর পরিবার নিয়ে এসেছি, আবহাওয়াটা দারুণ। খুব ভালো সময় পার করছি সাগরতীরে।’

বর্ষা মৌসুমে পর্যটক কম থাকলেও এখন আবহাওয়ার উন্নতিতে আবার ফিরছে সেই চিরচেনা গতি। পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনে পর্যটকের ভিড় আরও বাড়বে। সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের বার্মিজ পণ্যের ব্যবসায়ী হুমায়ুন কাদের বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে পর্যটক কমেছিল। তবে বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার পর্যটকের আগমন ছিল বেশি। সামনের দিনগুলোতে বাড়বে পর্যটকের আগমন।’

সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র লাইফ গার্ড কর্মী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা লাইফ গার্ড সদস্যরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি। ভ্রমণপিপাসুদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে গোসল করার পরামর্শ দিচ্ছি। সাগরের ঢেউ উত্তাল থাকা, এখনও লাল পতাকা উড়িয়ে সমুদ্রস্নানে সতর্ক করা হচ্ছে পর্যটকদের। অনেকে মানছেন, অনেকে মানছেন না। তার পরও সৈকতে সুগন্ধা, কলাতলী ও লাবণী পয়েন্টে লাইফ গার্ড কর্মীরা সজাগ রয়েছে।’

দিন শেষে সূর্য যখন পশ্চিমে হেলে পড়ে, তখনও কক্সবাজারের সৈকতে রয়ে যায় আনন্দের রেশ। ভ্রমণপ্রেমীরা ফিরছেন সুখস্মৃতি নিয়ে, আর অপেক্ষা শুরু হয় পরবর্তী ছুটির। সাগরের টানে কক্সবাজারের পথে পথে যেমন বাড়ছে পর্যটকের আনাগোনা, তেমনি নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় সবার সচেতনতাও প্রয়োজন বলে মনে করছেন কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading