আমেরিকায় রফতানি ১৪ শতাংশ কমতে পারে: র্যাপিড চেয়ারম্যান
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১৩:৩০
রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্কারোপের কারণে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় রফতানি ১৪ শতাংশ কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। যার বেশির ভাগই তৈরি পোশাক।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পাল্টা শুল্কের কারণে আমেরিকায় তৈরি পোশাকের আমদানি ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমতে পারে। এতে বাজার ছোট হয়ে যাবে, আর ছোট বাজারে রফতানি করা আরও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তবে বাংলাদেশের অবস্থা তুলনামূলক ভালো হতে পারে, কারণ ইন্ডিয়াসহ অনেক দেশের রফতানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
বিভিন্ন দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপের কারণে আমেরিকার আমদানি ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ইন্ডিয়ার ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কারণে আগামী এক বছরে আমেরিকা তাদের রফতানি প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। সামগ্রিকভাবে আমেরিকায় পোশাক আমদানি ১২ শতাংশ হ্রাস পাবে। এতে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের অতিরিক্ত রফতানির সুযোগ আর নেই।
তবে বিকল্প হিসেবে ইউরোপের বাজার ধরার বড় সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন র্যাপিড চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, তবে এলডিসি গ্রাজুয়েশন থেকে বাংলাদেশের এই মুহূর্তে পিছিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এটা দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। আবার পেছালেও বড় দেশগুলো আর সুবিধা নাও দিতে পারে। তবে সরকার চেষ্টা করতে পারে। অতিরিক্ত সময় পেলে ভাল।’
এর আগে গত ৩ এপ্রিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। সে সময় বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। তবে সেটি তিন মাসের জন্য স্থগিত রেখেছিলেন ট্রাম্প প্রশাসন।
এরপর গত ৭ জুলাই সিদ্ধান্ত বদলে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যা গত ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক কমানোয় ১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশকে গড় ১৫ শতাংশ ও নতুন পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ, অর্থাৎ মোট ৩৫ শতাংশ শুল্ক দিয়ে আমেরিকায় পণ্য রফতানি করতে হচ্ছে।
ইউডি/রেজা

