তানোর বরেন্দ্র অঞ্চলে থেকে বিলুপ্তির পথে বিরল পাখি: ফিরে পেল শৈশবের কুসংস্কারের স্মৃতি

তানোর বরেন্দ্র অঞ্চলে থেকে বিলুপ্তির পথে বিরল পাখি: ফিরে পেল শৈশবের কুসংস্কারের স্মৃতি

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১৫:১৫

রাজশাহীর বরেন্দ্র গ্রামাঞ্চলে এক সময় হঠাৎ করে আকাশে দেখা যেত বিশালাকৃতির এক রহস্যময় পাখি। স্থানীয়ভাবে একে অনেকে ডাকত চোখনিয়া পাখি বা পেঁচা জাতীয় শিকারি পাখি (ঈগল/শকুন) নামে। ছোটবেলায় এই পাখি দেখলেই অনেকেই ভয়ে চোখে হাত দিয়ে চোখ ঢেকে রাখতেন। কারণ গ্রামবাংলায় দীর্ঘদিন ধরে একটি কুসংস্কার প্রচলিত ছিল— “এই পাখি নাকি মানুষের চোখ তুলে নিয়ে যায়।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আসলে চোখ তোলার মতো বিপজ্জনক নয়। বরং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বড় শিকারি পাখি যেমন শকুন, চিল বা ঈগল, এরা মূলত মৃত প্রাণীর দেহ বা ছোট ছোট প্রাণী খেয়ে প্রকৃতিকে পরিষ্কার রাখে। কিন্তু অতিরিক্ত বন নিধন, খাদ্যের অভাব এবং মানুষের কুসংস্কারের কারণে বাংলাদেশে এদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

রাজশাহীর বরেন্দ্রের উত্তরাঞ্চলে  গ্রামীণ জনপদে এক সময় নিয়মিত দেখা যেত এদের। এখন মাসের পর মাসেও চোখে পড়ে না।

প্রকৃতি সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শকুন বা বড় শিকারি পাখি প্রকৃতির পরিচ্ছন্ন কর্মী। এদের বিলুপ্তি হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। তাই এদের বাঁচিয়ে রাখতে হলে গ্রামাঞ্চলে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পাখিবিশারদরা মনে করেন, এসব পাখিকে ঘিরে ছড়িয়ে থাকা কুসংস্কার ভাঙতে হবে। শিশু-কিশোরদের শেখাতে হবে যে এই পাখিগুলো আমাদের শত্রু নয়, বরং বন্ধু। এগুলো প্রকৃতিকে রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। শিকারি পাখি হত্যা বন্ধ করতে হবে, তাদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি করতে হবে।

আমাদের শৈশবের ভয় আজ ইতিহাসে পরিণত হলেও, প্রকৃতিকে বাঁচাতে হলে এই বিরল পাখিগুলোকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।

ইউডি/সোহেলরানা/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading