কলেজের অধ্যক্ষকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বের করলেন শিক্ষক, ভিডিও ভাইরাল
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১৫:৫৫
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় নিজ প্রতিষ্ঠানে লাঞ্ছিত হয়েছেন ভূটিয়ারকোণা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদ। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়
ভিডিওতে দেখা যায়, ধেরুয়া কড়েহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে কলেজ থেকে বের করছেন। এ সময় আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদ জানান, গেল বছরের ৫ আগস্টের আগ থেকেই তার কলেজের গণিতের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম তালুকদার, ধর্মের শিক্ষক সাজেদুল ইসলাম, ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য শফিকুল ইসলাম রতন ও আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ চলছিল। ওই বছরের ৫ আগস্টের পর বিরোধ আরও তীব্র হয়। তারা তার কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে কলেজ থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেয় এবং বহিরাগত নিয়ে একাধিকবার চেষ্টা চালায়।
তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন কলেজে এসে আমাকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বের করে দেয়। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই থানায় একটি অভিযোগ করেছি।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলেজের নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে গত বছরের জুলাই থেকে অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদের অপসারণ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের একাংশ। পরে ৫ আগস্টের পর তাকে পদ থেকে সরিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় ধর্মের শিক্ষক সাজেদুল ইসলামকে। এ নিয়ে এলাকায় দুটি পক্ষ তৈরি হয়।
এরপর গত বছরের ১৭ অক্টোবর স্থানীয় নেতাদের পরামর্শে সাজেদুল ইসলাম দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান এবং গোলাম মোহাম্মদকে আবার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেন। তবে এরপর থেকে একটি পক্ষ তাকে কলেজে যেতে বাধা দেয় এবং তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ধর্মের শিক্ষক সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘স্যারের সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর শিক্ষকতা করছি। পরিস্থিতির কারণে আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করা হয়েছিল, কিন্তু আমি দায়িত্ব নিতে চাইনি। এখানে দুটি পক্ষ হয়ে যাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। স্যারের সঙ্গে একটি ঘৃণিত কাজ হয়েছে। যারা করেছে তাদের বিচার হওয়া উচিত।’
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে মারধরের বিষয়ে অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদ একটি অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ইউডি/রেজা

