টারবাইনে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আকাশে ভাসমান দৈত্যাকার উইন্ড

টারবাইনে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আকাশে ভাসমান দৈত্যাকার উইন্ড

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৫, আপডেট ১:

নবায়নযোগ্য জ্বালানির নতুন দিগন্ত খুলেছে চীন। দেশটি সফলভাবে পরীক্ষা চালিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ভাসমান ফোলানো (ইনফ্ল্যাটেবল) উইন্ড টারবাইন-এস-১৫০০। এটি আকাশে উড়ে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে।

টারবাইনটি একটি হিলিয়ামভর্তি গ্যাসব্যাগ ও রিং-আকৃতির ডানার সমন্বয়ে তৈরি। এটি ১ হাজার ৫০০ মিটার উচ্চতায় ভেসে কাজ করতে পারে। এভাবেই এটি উঁচু আকাশের বাতাসের প্রবাহ ব্যবহার করে রোটর ঘোরায় এবং ১২টি ১০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এই বিদ্যুৎ মাটিতে স্থাপিত স্টেশনে পাঠানো হয় শক্তিশালী সংযোগ তারের মাধ্যমে।

বেইজিংভিত্তিক কোম্পানি লিনই ইউনচুয়ান এনার্জি টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড এই উদ্ভাবনী যন্ত্রটি তৈরি করেছে। দেখতে এটি অনেকটা বিশাল আকাশযানের মতো। প্রায় ১৩তলা ভবনের সমান উঁচু এবং একটি বাস্কেটবল কোর্টের সমান লম্বা এই এস-১৫০০ ভাসমান টারবাইনকে আধুনিক বায়ু শক্তি প্রযুক্তির নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ডান তিয়ানরুই বলেন, আমরা আশা করি আকাশভিত্তিক এই বায়ু বিদ্যুৎ ব্যবস্থা টেকসই ও সাশ্রয়ী পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠবে।

চীনের এই উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো, এতে প্রচলিত উইন্ড টারবাইনের মতো ভারী ধাতব টাওয়ার বা বৃহৎ ব্লেডের প্রয়োজন পড়ে না। ফলে প্রতিকিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। তাছাড়া ফোলানো নকশার কারণে এই টারবাইন সহজেই খোলা ও লাগানো যায় এবং যেকোনও অঞ্চলে স্থানান্তর করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি দূরবর্তী অঞ্চল, সমুদ্র উপকূল বা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপ্লব আনতে পারে। কারণ এতে স্থায়ী স্থাপনার প্রয়োজন নেই, বরং প্রয়োজনমতো স্থাপন ও অপসারণ সম্ভব।

তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। এস-১৫০০-এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার আগে নিরাপত্তা মান, চরম আবহাওয়ায় স্থিতিশীলতা, নিয়ন্ত্রক নীতিমালা ও যন্ত্রাংশের স্থায়িত্ব নিয়ে আরও পরীক্ষা চালাতে হবে।

চীনের সরকার ইতোমধ্যে আকাশভিত্তিক বায়ু বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আগামী দশকের নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছে। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিশাল অংশ এখনও স্থলভিত্তিক টারবাইন থেকে আসে, তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি এই ভাসমান প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর প্রমাণিত হয়, তবে তা চীনের জ্বালানি রূপান্তরের পথে একটি বিপ্লব হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি দূরবর্তী অঞ্চল, সমুদ্র উপকূল বা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপ্লব আনতে পারে। কারণ এতে স্থায়ী স্থাপনার প্রয়োজন নেই, বরং প্রয়োজনমতো স্থাপন ও অপসারণ সম্ভব।

সূত্র: ওডিটি সেন্ট্রাল

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading