খাগড়াছড়িতে নিউমোনিয়ায় ২০ দিনে ১২ শিশুর মৃত্যু

খাগড়াছড়িতে নিউমোনিয়ায় ২০ দিনে ১২ শিশুর মৃত্যু

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, আপডেট ১৬:০৫

খাগড়াছড়িতে বাড়ছে আবহাওয়াজনিত রোগের প্রকোপ। জ্বর ও সর্দি-কাশিসহ নানা উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। আক্রান্তদের বেশির ভাগই শিশু। গত এক সপ্তাহে প্রায় সহস্রাধিক শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২০ দিনের ব্যবধানে মারা গেছে ১২ জন শিশু।

দিনের বেলায় গরম থাকলেও রাতে পড়ছে হালকা শীত, বিশেষ করে পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় ঠান্ডার প্রকোপ বেশি অনুভূত হচ্ছে। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ঠান্ডাসহ ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। আক্রান্তদের মধ্যে বেশির ভাগের বয়স ৬ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে।

খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ এখন ধারণক্ষমতার চার গুণ বেশি। ১৫ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে অন্তত ৬২ জন শিশু। প্রতিদিন বহির্বিভাগেও চিকিৎসা নিচ্ছে কয়েকশ রোগী। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকেই ফ্লোরে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

রোগীর স্বজন মো. রেশমত উল্ল্যা, মরিয়ম বেগম ও কবিতা চাকমা বলেন, ‘ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর বাচ্চাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। এখানে চিকিৎসা সেবা ভালো, কিন্তু জায়গার অভাবে অনেককেই ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। পাশের ভবনের নির্মাণ কাজ ছয় বছরেও শেষ হয়নি। নতুন ভবন চালু হলে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে চিকিৎসা নিতে পারতাম।’

শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স প্রিয়াঙ্কা রানী ভৌমিক বলেন, ‘রোগীর চাপ খুব বেশি। প্রতিদিন প্রচুর শিশু ভর্তি হচ্ছে। জায়গা সংকটে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ১৫ বেডের ওয়ার্ডে ৬২ জন ভর্তি রয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেককে ফ্লোরে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। নতুন ভবনের কাজ দ্রুত শেষ হলে আমরা রোগীদের আরও ভালো সেবা দিতে পারব।’

হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ওমর ফারুক জানান, ঋতু পরিবর্তনের কারণে নবজাতক ও শিশুরা বেশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক শিশু ‘সিভিয়ার নিউমোনিয়া’ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ঠান্ডার কারণে সামনে আরও রোগীর চাপ বাড়তে পারে। বাচ্চাদের বাড়তি যত্ন নিতে হবে। জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসা দিতে আমাদের কষ্ট হচ্ছে।’

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, ‘দিনে ও রাতে আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে অভিভাবকদের শিশুদের অতিরিক্ত যত্ন নিতে হবে। বাচ্চাদের শরীর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুছে দিতে হবে। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে আনতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চলতি মাসের ২০ দিনের ব্যবধানে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।’

উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতাল ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও বর্তমানে এটি চলছে মাত্র ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে। হাসপাতালের ৫৭ জন চিকিৎসকের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৮ জন। সুশীল সমাজের মতে, নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দিলে জেলার দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসেবা সংকট অনেকটাই কাটবে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading