চারঘাটে মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল এখন নেশাগ্রস্তদের আড্ডাস্থল
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫, আপডেট ১৭:৪০
রাজশাহীর চারঘাটে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মম ভাবে নিহতদের স্বরণে নির্মিত দুটি মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল মিউজিয়াম এখন নেশাগ্রস্থদের আড্ডাস্থলে পরিনত হয়েছে। চরম অবেহেলা ও তদারকির অভাবে ঐতিহাসিক নিদর্শন প্রতিষ্ঠানটি এখন শুধুই স্মুতিতে রুপ নিয়েছে। গত ২ বছর আগে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে উপজেলা প্রশাসনের নিকট মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল মিউজিয়ামটি বুঝিয়ে দেয়া হলেও প্রতিষ্ঠান দুটি উদ্বোধনই করা হয়নি। তার আগেই প্রতিষ্ঠান দুটি বেহাল দশা।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পদ্মার চরে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহতদের স্মরণে ২০১৯-২০ অর্থবছরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ১,৮৫০ বর্গফুট আয়তনের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শিবলী চত্বরে ‘মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল মিউজিয়াম’ এবং ২,২০০ বর্গফুট আয়তনের থানাপাড়া এলাকায় ‘মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল’ নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মান কাজ শেষ করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের পরও নির্ধারিত সময়ে উদ্বোধন করা হয়নি। ইতিহাসের স্মারক দুটি এখন অযথা পড়ে থেকে হারাচ্ছে তাদের ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য।
একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের অন্যতম সদস্য থানাপাড়া গ্রামের মোকাররম হোসেন হেজু বলেন, দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিরক্ষা ও গৌরব সংরক্ষণের জন্য এই মিউজিয়ামটি নির্মাণ করেন। কিন্তু উদ্বোধনের আগেই ভবনটির , গেট, জানালা, দরজা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, রেলিং, কমোড, হ্যান্ড পাম্পসহ সব আসবাবপত্র দুষ্কৃতিকারীরা চুরি করে নিয়ে গেছে। অবহেলার কারণে এটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, মিউজিয়ামটি এখন নেশাগ্রস্তদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। এমন একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাওয়া সত্যিই বেদনাদায়ক।
চারঘাট উপজেলা প্রকৌশলী রতন কুমার ফৌজদার জানান, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে মিউজিয়ামটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সংস্কার বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ৫ আগষ্ট দুষ্কৃতিকারীদের হামলায় ভবনটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও মালামাল লুট হয়। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রত সংস্কার কার্যক্রম শুরু হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়ালের বর্তমান অবস্থা দেখে আমি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত মর্মাহত। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতর ইতোমধ্যে সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ক্ষতিপূরণের বাজেট প্রস্তাব পাঠিয়েছে। বাজেট অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
ইউডি/রেজা/সোহেল রানা

