দাপুটে জয়ে দেড় বছর পর ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশের
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ২০২৫, আপডেট ২০:৪৫
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ব্যাটে-বলে বাংলাদেশের কাছে পাত্তাই পেলো না ওয়েস্ট ইন্ডিজে। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ক্যারিবীয়দের ১৭৯ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দেড় বছর পর ওয়ানডে সিরিজ জিতলো লাল সবুজরা।
মিরপুরে বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশের দেওয়া ২৯৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৩০.১ ওভারে সব কটি উইকেট হারিয়ে ১১৭ রানে থামে ক্যারিবীয়রা।
সফরকারীদের দ্রুত গুঁড়িয়ে দেওয়ার পথে বল হাতে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন। এছাড়া ২টি করে উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তানভীর ইসলাম। একাদশে থাকলেও এদিন কোনো ওভার করেননি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। ব্যাট হাতে বাংলাদেশকে জয়ের পুঁজি এনে দেওয়ার নায়ক সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসান। সৌম্য ৯১ আর সাইফ ৮০ রানের ইনিংস খেলেছেন।
অবশেষে প্রিয় ফরম্যাটে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ। মাঝে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১ বছর ৭ মাস ৫ দিন। এর মধ্যে চার সিরিজ খেলে দুটিতে হোয়াইটওয়াশও হয়েছে। শেষমেশ সে ব্যর্থতার ইতি উইন্ডিজের বিপক্ষে টানলো লাল সবুজরা। অবশ্য সিরিজ জয়ের সুযোগ ছিল ক্যারিবীয়দের সামনে। প্রথম ওয়ানডেতে ২০৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৭৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছিল তারা। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২১৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে টাই করে তারা। এরপর সুপার ওভারে জিতে সমতায় ফেরে। তবে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে তাদের কোনো সুযোগই দেয়নি টাইগাররা।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৯৬ রানের বড় পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। আগের দুই ওয়ানডেতে মিরপুরের কালো পিচে যেখানে প্রথম ইনিংসের রান ছিল যথাক্রমে ২০৭ ও ২০১৩, সেখানে আজ ঝড় তুলেছেন সাইফ ও সৌম্য। তাও প্রথম ম্যাচের পিচে খেলে তারা একশর উপর স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করেছেন। ২৫ ওভারের মধ্যে উদ্বোধনী জুটিতে দলকে এনে দিয়েছিলেন ১৭৬ রান। যা মিরপুরে বাংলাদেশের পক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ জুটি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের উদ্বোধনী জুটিতে ২৯২ রান টাইগারদের ওয়ানডে ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। শুধু উদ্বোধনী নয়, যেকোনো উইকেটেও বাংলাদেশের এটি সর্বোচ্চ রানের জুটি।
তবে এদিন সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও সুযোগ হাতছাড়া করেন সাইফ-সৌম্য। ৭২ বলে ৬ ছক্কা ও ৬ চারের মারে ৮০ রান করে আউট হন সাইফ। ৮৬ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ৯১ রান করে আউট হন সৌম্য। ৫৫ বলে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
ক্যারিবীয় বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল আকিল হোসেন ৪১ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন।
এদিন রান তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের শুরুতেই চাপে ফেলেন স্পিনার নাসুম আহমেদ। দেখেশুনে শুরুর পর হাতখুলে খেলার চেষ্টা করেছিলেন অ্যালিক অ্যাথানেজ। তবে তাকে সুযোগ দেননি নাসুম। ২১ বলে ১ ছক্কার মারে ১৫ রান করে নাসুমের ঘূর্ণিতে ব্যর্থ হয়ে এলবিডব্লিউন হন এ ওপেনার। এক ওভার পর আবার আক্রমণে এসে আকিম আগুস্তেকেও শিকার করেন নাসুম। ৩ বলে শূন্য রানে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন এ ব্যাটার। এরপর ইনিংসের নবম ওভারে আক্রমণে এসে নাসুম তুলে নেন আরেক ওপেনার কিংকে। ১৭ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৮ রান করে বোল্ড হন তিনি।
ইউডি/এবি

