আমিরাতে আটক বাংলাদেশিদের মুক্তির জন্য চিঠি দেবেন প্রধান উপদেষ্টা
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ২০২৫, আপডেট ২৩:৫৫
গেলো বছর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিক্ষোভ করে আটক হওয়া বাংলাদেশের ২৪ নাগরিকের মুক্তির বিষয়ে কূটনৈতিক ও আইনি প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এর বাইরে কারাবন্দি অবস্থায় আব্দুল হামিদ (৪৫) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি মারা গেছেন। অন্যদের ফেরাতে তোরজোড় শুরু করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
বন্দিদের সাধারণ ক্ষমা দিতে আবারও অনুরোধ জানিয়ে আমিরাতের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে চিঠি দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। চিঠির খসড়া তৈরি করছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত বছর আমিরাতের আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ৫৭ বাংলাদেশিকে সাধারণ ক্ষমা করতে আমিরাতের রাষ্ট্রপতিকে টেলিফোনে অনুরোধ জানান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ৫৭ বাংলাদেশিকে দুবাইয়ের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আটক করা হয়। এরপর গত বছরের ২২ জুলাই তিনজনকে যাবজ্জীবন, একজনকে ১১ বছর এবং ৫৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আমিরাতের আদালত। তখন তাদের মুক্তির বিষয়ে আইনজীবী ওলোরা আফরিনকে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ সরকার।
এরপর ১১ আগস্ট পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানান, তাদের মুক্তির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা আমিরাতের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলবেন।
গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর আমিরাত সরকার ৫৭ বাংলাদেশিকে ক্ষমা ঘোষণা করে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিক্ষোভ করায় যে ৫৭ জন বাংলাদেশিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধে তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে এসব প্রবাসীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন আমিরাতের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।
তিনি তখন আরও জানান, গত ২৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের। সেখানে বড় অংশজুড়ে ছিল ৫৭ জনের শাস্তি মওকুফের বিষয়টি। প্রধান উপদেষ্টা প্রেসিডেন্টকে প্রবাসী শ্রমিকদের ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট তার কথা রেখেছেন। প্রধান উপদেষ্টা আজ এ সুখবরটি পান এবং জানিয়ে দেন।
এরপর তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।
এই বছরের ৯ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানায়, এরই মধ্যে ১৮৮ জন বন্দি মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন। অন্তর্বর্তী সরকার আশা করছে, খুব শিগগিরই বাকি ২৫ জনও দেশে ফিরতে পারবেন।
ইউডি/এবি

