জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ২০২৫, আপডেট ২২:৩০
জিজ্ঞাসাবাদের নামে হত্যাচেষ্টা, মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুজ্জামানের আদালতে মামলাটির আবেদন করেন মো. জাহাঙ্গীর নামে এক আহত জুলাই যোদ্ধা। এ সময় আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি শাহবাগ থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ইলতুৎমিশ সওদাগর এ্যানি এবং তাহমিনা আক্তার লিজা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার আসামিরা হলেন, ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ শ্রাবন্তী, সাইদুর রহমান শাহিদ, সাগর, আফজালুর রহমান সায়েম, সোনিয়া আক্তার লুবনা, ফাতেমা আফরিন পায়েল, আলিফ, মেহেদী হাসান প্রিন্স ও জাহিদ।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে ১৮ জুলাই আন্দোলনের সময় কাঁচপুর ব্রিজে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আক্রমণে ভিকটিম গুলিবিদ্ধ হন। ২৭ মে দুপুরে বাদী জাহাঙ্গীর দিকে ফাউন্ডেশনের অফিসে যান এবং কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এরপর বাদীর নিজের অনুদান পাওয়ার জন্য কিছু দালিলিক প্রমাণ দাখিল করেন। পরবর্তীতে আসামিরা বাদীকে জুলাই ফাউন্ডেশনে একটি অন্ধকার কক্ষে নিয়ে যায় এবং বাদীকে জিজ্ঞাসা করে কীভাবে আহত হয়েছেন? তখন বাদী জানান, আন্দোলনের সময় আওয়ামী নেতাকর্মী ও পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে আসামিরা বাদীকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। ১ নন্বর আসামি সাইদুর রহমান শাহিদ তার হাতে থাকা জিআই পাইপ দিয়ে সজোরে বাদীর মাথা বারবার আঘাত করতে থাকে। একপর্যায়ে বাদী সেখানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
এতে আরও বলা হয়, পরে বাদীর জ্ঞান ফিরলে আসামিরা পুনরায় তাকে মারধর শুরু করে এবং বাদী ভুয়া জুলাই যোদ্ধা এই কথা বলার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এ সময় আসামিরা জোর করে বাদীর হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে আবারও মারধর করতে থাকে। এরপর আসামিরা বাদীর ডান হাতে একটি ইনজেকশন পুশ করে রাস্তায় অচেতন অবস্থা ফেলে দেয়। পরবর্তীতে মামলার বাদী অসুস্থ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করে মামলাটি দায়ের করেন।
ইউডি/এবি

