হরমুজ প্রণালিতে ৭টি ইরানি বোট ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি ট্রাম্পের
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০৫ মে, ২০২৬, আপডেট ০৯:২০
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ইরানের ৭টি ‘ক্ষুদ্র যুদ্ধযান’ (স্মল বোট) ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে আমেরিকার। সোমবার এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তেহরান ওই এলাকায় বেশ কিছু জাহাজে হামলার চেষ্টা চালালে আমেরিকার বাহিনী পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেয়।
ট্রাম্প বলেন, ইরান বেশ কয়েকটি দেশের জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি পণ্যবাহী জাহাজও রয়েছে। আমরা তাদের সাতটি ছোট বোট ধ্বংস করেছি। এগুলো ছাড়া ইরানের কাছে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তিনি আরও জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজটি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মার্কিন বাহিনীর হস্তক্ষেপে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে। তিনি এই অভিযানে দক্ষিণ কোরিয়াকেও সরাসরি যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে সোমবার আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাডলি কুপার সাংবাদিকদের জানান, অ্যাপাচি ও সি-হক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ইরানের ৬টি ছোট বোট ধ্বংস করা হয়েছে। ইরান এই পথে চলাচলকারী জাহাজে ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালানোর চেষ্টা করছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যদিও ট্রাম্প ইরানের নৌবাহিনী প্রায় নিঃশেষ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন, তবে আমেরিকার সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের কাছে এখনো এমন কিছু ক্ষুদ্র বোট রয়েছে যা প্রণালিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির সক্ষমতা রাখে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বর্তমানে আমেরিকার ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ পরিচালনা করছে। এই অভিযানে প্রায় ১৫ হাজার সেনাসদস্য, ১০০টি বিমান এবং একঝাঁক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার সকালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং সামরিক কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলন করবেন।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও আমেরিকা-ইসরায়েল উত্তেজনার জেরে এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
সূত্র: সিএনএন
ইউডি/কেএস

