‘অর্থ আত্মসাৎ’: মামলা হচ্ছে আরও ৬ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ২০২৫, আপডেট ২৩:৪০
দেশের আরও ছয়টি রিক্রুটিং এজেন্সির ১১ জনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ‘সিন্ডিকেট’ করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে প্রায় ৫২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে এসব মামলা করা হবে।
এ নিয়ে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুদক বলছে, ‘অনিয়মে’ যুক্ত থাকা এসব রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের মেরিট ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের নামও রয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে পাঁচগুণ পর্যন্ত অর্থ নিয়ে ‘আত্মসাৎ’ করার তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি।
দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন বৃহস্পতিবার বলেন, ৩১ হাজার ৩৩১ জন কর্মীর কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার পরিবর্তে গড়ে পাঁচগুণ বেশি অর্থ আদায় করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
ছয়টি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আসামি করে মামলাগুলো করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
একটি মামলা হচ্ছে মেসার্স আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের মালিক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ৭ হাজার ৪৩০ জন কর্মীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ১২৪ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা আদায় করেছেন।
মামলা হচ্ছে মেরিট ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরনের বিরুদ্ধেও।
অভিযোগ রয়েছে, আসামির ৩ হাজার ৪৮৯ জনের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫৮ কোটি ৪৪ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন।
এ মামলায় কিরণের স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককেও আসামি করা হচ্ছে।
একটি মামলাটি হচ্ছে সাদিয়া ইন্টারন্যাশনালের মালিক শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমানের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ৩ হাজার ৩২১ জনের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫৫ কোটি ৬২ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন।
মালয়েশিয়ায় শ্রমিক ভিসায় দেশটিতে যেতে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার ৫৪০ টাকা ফি নির্ধারণ করে সরকার। ২০২২ সালে এক অফিস আদেশে এ খরচ নির্ধারণ করেছিল প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া সরকারের চুক্তির আওতায় ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১০টি নির্ধারিত রিক্রুটিং এজেন্সি দেশটিতে শ্রমিক পাঠাত। পরে ২০২১ সালে নতুন একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে দুই দেশ। এতে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০টি করা হয়।
তবে সেখানেও নতুন সিন্ডিকেট তৈরি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ১০০ এজেন্সির মধ্যে ২০-২৫টি এজেন্সির সিন্ডিকেটই নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে মালয়েশিয়ার কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া।
ইউডি/এবি

