ঢাকার মঞ্চে জেমসের সঙ্গে পাকিস্তানের আজমত
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১৫:৪৫
ঢাকার মঞ্চে একসঙ্গে পারফর্ম করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কিংবদন্তিতুল্য দুই রকতারকা জেমস ও আলি আজমত। ‘লেজেন্ডস লাইভ ইন ঢাকা’ কনসার্টের সূত্র ধরে প্রথমবার একমঞ্চে মিলতে যাচ্ছেন তারা। আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকার কুর্মিটোলার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে কনসার্টটি। উপমহাদেশের শীর্ষ দুই রকতারকাকে নিয়ে এ আয়োজন করছে অ্যাসেন কমিউনিকেশন এবং প্রধান সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে স্টেট মিডিয়া।
এরই মধ্যে কনসার্টকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন সংগীতপ্রেমীরা। সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরেছেন এ আয়োজনে শরিক হওয়ার ইচ্ছা ও নিজেদের অনুভূতির কথা। এর আগেও জুনুন ব্যান্ডের শিল্পী আলি আজমত ঢাকা এসেছেন, গানে গানে ভালোবাসা কুড়িয়েছেন দর্শক-শ্রোতার। একইভাবে এ দেশের শীর্ষ রকতারকা এবং নগর বাউল ব্যান্ডের শিল্পী জেমসও উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে পারফর্ম করে সংগীতপ্রেমীদের হৃদয় জয় করেছেন। তারপরও কখনও জেমস ও আলি আজমতের একসঙ্গে পারফর্ম করার অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেনি। সে কারণে ‘লেজেন্ডস লাইভ ইন ঢাকা’ কনসার্টটি দক্ষিণ এশিয়ার সংগীতপ্রেমীদের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হতে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন আয়োজকরা।
অ্যাসেন কমিউনিকেশনের সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিক প্লানার মুকেশ গোয়ালা বলেন, ‘ভক্তদের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস আমরা দেখছি, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। টিকিট বিক্রিও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ইতিবাচক। আমরা বিশ্বাস করি, এই রাতটি ঢাকার সংগীত ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে স্থান পাবে।’ তিনি আরও জানান, দর্শকদের জন্য সর্বোচ্চ মানের নিরাপত্তা, সাউন্ড এবং লাইটিং নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে সবাই এক অনন্য অভিজ্ঞতা পান। ১৪ নভেম্বর বিকেল ৫টায় দর্শকের জন্য কনসার্ট ভেন্যুর গেট খুলে দেওয়া হবে। গেট বন্ধ হবে রাত ৮টায়। তার আগেও সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হবে শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা পর্ব। সব শ্রেণির দর্শক নির্দিষ্ট মূল্যের টিকিট কেটে এ আয়োজন উপভোগ করতে পারবেন।
নিজের কোনো আয়োজন নিয়ে জেমস কখনও বেশি কিছু বলেন না। পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে বলা যায় তাঁর অব্যক্ত কথাগুলো। তাই ‘লেজেন্ডস লাইভ ইন ঢাকা’ কনসার্ট নিয়ে তাঁর ভাষ্য এটুকুই, ১৪ নভেম্বর আবার সংগীতপ্রেমীদের সঙ্গে দেখা, গান হবে। শোনাবেন তাদের প্রিয় কিছু গান। অন্যদিকে পাকিস্তানি রকতারকা আলি আজমত ভিডিও বার্তায় ঢাকা আগমন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। জেমসের সঙ্গে একমঞ্চে পারফর্ম করার মুহূর্তটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন নন্দিত এই শিল্পী।
এ বছর আলি আজমত দেশ-বিদেশের মঞ্চ পারফর্ম করে আলোচনায় ছিলেন। একইভাবে জেমস ও তাঁর ব্যান্ড নগর বাউল সদস্যদের ব্যস্ত সময় কেটেছে বিভিন্ন দেশে আয়োজিত একাধিক কনসার্টে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে। গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য গ্রেটার ফিলাডেলফিয়া এক্সপো সেন্টারে পারফর্ম করেন তিনি। ‘নগর বাউল জেমস: লাইভ ইন ফিলি’ শিরোনামে ওই কনসার্টের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, টিকিট বিক্রির একটি অংশ দেওয়া বাংলাদেশে মাইলস্টোন স্কুলের বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কল্যাণে। ফিলাডেলফিয়া ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে আয়োজিত আরেকটি কনসার্টে পারফর্ম করেছিলেন জেমস। যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে এই রকতারকা অংশ নিয়েছিলেন সৌদি সরকারের আমন্ত্রণে দাম্মাম আর জেদ্দায় আয়োজিত কনসার্টে।
এ ছাড়াও গত দুই বছরে বেশ কয়েকটি দেশ সফর করেছেন দেশের জনপ্রিয় এই শিল্পী। তবে দেশের বেশ কিছু বড় আয়োজনে গাইতে দেখা গেছে তাঁকে। এ বছরের মাঝামাঝি বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ [বিবিএফসি] উপলক্ষে টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত কনসার্টে অংশ নেন নগর বাউল জেমস। এ আয়োজনটি দর্শক-শ্রোতাদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছিল। একইভাবে তিনি দর্শক হৃদয়ে কড়া নেড়েছেন চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ‘ফুল উৎসব’-এর গালা নাইটে পারফর্ম করে। ফেব্রুয়ারি মাসে জেলা প্রশাসন চট্টগ্রাম স্থানীয় এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে এই ‘ফুল উৎসব’ ও কনসার্টের আয়োজন করে। এর বাইরেও আরও বেশ কিছু আয়োজন অংশ নিয়েছেন জেমস। তবে এ বছর নতুন কোনো গান প্রকাশ করতে দেখা যায়নি তাঁকে।
নন্দিত এই শিল্পী জানিয়েছেন, কনসার্টের বাইরে বেশ কিছু গানের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে তাঁর। সেগুলোর কাজ শেষ হলেই একে একে প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তবে গান প্রকাশ নিয়ে এখনও নিশ্চিত করে কোনো দিন-তারিখ উল্লেখ করা সম্ভব নয়।
ইউডি/কেএস

