‘পরিস্থিতির শিকার হয়ে বাচ্চা রেখে গেলাম, দয়া করে কেউ নিয়ে যাবেন’

‘পরিস্থিতির শিকার হয়ে বাচ্চা রেখে গেলাম, দয়া করে কেউ নিয়ে যাবেন’

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৫, আপডেট ২১:৩০

‘পরিস্থিতির শিকার হয়ে বাচ্চা রেখে গেলাম, দয়া করে কেউ নিয়ে যাবেন’ লেখা চিরকুট রেখে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নবজাতক কন্যা সন্তানকে ফেলে গেছেন মা। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতালে শিশুটিকে দত্তক নিতে আগ্রহী অনেকেই ভিড় করেন।

শিশুটির পাশে থাকা একটি বাজারের ব্যাগে পাওয়া যায় ওই চিরকুট। তাতে লেখা ছিল ‘আমি মুসলিম। আমি একজন হতভাগী। পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে বাচ্চা রেখে গেলাম। দয়া করে কেউ নিয়ে যাবেন। বাচ্চার জন্ম তারিখ ৪ নভেম্বর ২০২৫। এগুলো সব বাচ্চার ওষুধ…’

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে এক দম্পতি শিশুটিকে ভর্তি করাতে এসে শিশুটির নানা-নানী হিসেবে পরিচয় দেন। তারা জানান, শিশুটির মা নিচে আছেন এবং পরে আসবেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, শিশুটিকে একা রেখে ওই দম্পতি হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন।

হাসপাতালে ভর্তি রেজিষ্ট্রারে ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে ইনছুয়ারা, শাহিনুর, আলাদিপুর, ফুলবাড়ী। আর বাচ্চাটির পাশে বাজারের ব্যাগে পাওয়া গেছে মায়ের রেখে যাওয়া ওই চিরকুট। শিশুটির পাশে ব্যাগে ছিল কিছু ওষুধ, ডায়াপার ও জামাকাপড়। পরে হাসপাতালের কর্মীরা শিশুটিকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। ইতোমধ্যে অনেকেই শিশুটিকে দত্তক নিতে হাসপাতালে যোগাযোগ করেছেন।

চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি সময়ের আগে জন্মালেও বর্তমানে সুস্থ আছে। তাকে ফটোথেরাপি দেওয়া হয়েছে এবং ওয়ার্মারে রাখা হয়েছে।

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডাক্তার আহসানুউল্লাহ জানান, নানা-নানী পরিচয় দিয়ে পঞ্চাশোর্ধ এক দম্পত্তি বাচ্চাটিকে নিয়ে আসেন। এ সময় মায়ের খোজ করলে তারা জানায় মা নিচে আছেন। এরপর মাকে নিয়ে আসার কথা বলে বাচ্চা রেখে বেরিয়ে যান। পরে শিশু ওয়ার্ডের বাইরে একটি বেডে বাচ্চাটিকে একা থাকতে দেখে তাদেরকে খোজাখুঁজি করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। শিশুটির পাশে ব্যাগে ওষুধ, ডায়াপার ও জামাকাপড় পাওয়া গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয়েছে এবং শিশুটি সুস্থ রয়েছে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading