প্যালেস্টাইনে এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে স্কুল, শুরু হয়েছে ক্লাস

প্যালেস্টাইনে এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে স্কুল, শুরু হয়েছে ক্লাস

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১৩:৩০

দুই বছরের অবিরাম ইসরায়েলি হামলায় গাজার দৈনন্দিন জীবনের কাঠামো পালটে গেছে। ঘরবাড়ি, হাসপাতাল এবং স্কুল ধ্বংস হয়ে গেছে। গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলো ধীরে ধীরে প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে।

শান্তিচুক্তির চার সপ্তাহ পর ইসরায়েলি হামলা ও ত্রাণ প্রবেশে বিধিনিষেধের মধ্যেই জাতিসংঘের প্যালেস্টাইনি শরণার্থীদের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ তাদের স্কুলগুলো চালু করছে।

গতকাল শুক্রবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে তিন লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সংস্থাটির ৯৭ শতাংশ স্কুল ভবনই যুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। অনেক স্কুল এখন শত শত বাস্তুচ্যুত পরিবারের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। গাজার দেইর এল-বালাহর পরিবারগুলো তাদের থাকার জায়গা, শিক্ষার্থীদেরও ক্লাস ও পড়াশোনার কাজ চালিয়ে যেতে ভাগাভাগি করছে।

প্যালেস্টাইনি শিক্ষার্থী ইনাম আল-মাঘারি বলে, তারা আবার স্কুলে পাঠ শুরু করেছে। শিক্ষায় তারা অনেক ক্ষতির শিকার হয়েছে। ইনাম বলে, ‘আমি আগে পড়াশোনা করতাম; কিন্তু আমরা দুই বছর ধরে স্কুল থেকে দূরে ছিলাম। আমি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণি শেষ করতে পারিনি। এখন আমি চতুর্থ শ্রেণিতে আছি; কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, আমি কিছুই জানি না।’

ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান এনাস হামদানের মতে, ‘আগামী সপ্তাহগুলোতে শিক্ষা পরিষেবা কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হবে। গাজার ৬২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী ও শিক্ষার নিরাপদ স্থান গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা গাজার তিন লাখ অনলাইন শিক্ষার ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছি।’

মনোবিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, তাদের ৮০ শতাংশেরও বেশি এখন গুরুতর মানসিক আঘাতের লক্ষণ দেখাচ্ছে। ইউনিসেফের অনুমান, যুদ্ধের সময় গাজায় ৬৪ হাজারের বেশি শিশু হতাহত হয়েছে।

শাসন সামলাতে প্যালেস্টাইনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি
প্যালেস্টাইনি মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাস ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের (পিএ) সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। এর আওতায় পিএর পক্ষ থেকে গাজার শাসন ব্যবস্থা সামলাবে অস্থায়ী একটি কমিটি। আলজাজিরার সঙ্গে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে ঊর্ধ্বতন হামাস কর্মকর্তা মুসা আবু মারজুক এ তথ্য জানান।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading